হঠাৎ শীতে কাঁপছে সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ শীতে বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ-বাড়ছে শীতবস্ত্রের চাহিদা
হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে। কয়েক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে সকাল-সন্ধ্যা জুড়ে। ভোরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর, ভ্যানচালক, কৃষি-শ্রমিক ও পথচারীরা।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাসের প্রভাবে হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর-এর তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া শীতল বায়ু ও আকাশ পরিষ্কার থাকায় রাতে দ্রুত তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। ফলে দিনের শুরুতে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে বেশি।
নবাবগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড, রহনপুর, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল বেলায় ভ্যানচালক ও রিকশাচালকদের বেশিরভাগই গায়ে মোটা কাপড় জড়িয়েই রাস্তায় বের হচ্ছেন। অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। দিনমজুররা বলছেন, শীত বাড়লে কাজের পরিমাণ কমে যায়, অথচ মৌসুমটাই তাদের আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এক ভ্যান চালক বলেন, “ভোরে বের হলে হাত-পা অবশ হয়ে যায়। গরম কাপড় না থাকলে কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।”
অন্যদিকে কৃষি শ্রমিকদেরও মাঠে কাজ করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সকাল দেরিতে মাঠে নামতে পারছে অনেকেই।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বাজার। জেলা শহরের কাপড়ের দোকান, ফুটপাত ও হাটবাজারে কম্বলের বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য তুলনামূলক সস্তা কম্বলই বেশি বিক্রি হচ্ছে।
এক দোকানি জানান, “হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় গত কয়েকদিনে কম্বলের বিক্রি অনেক বেড়েছে।”
এছাড়া লেপ-তোষক কারিগরদের কাছেও বাড়ছে অর্ডার। অনেকে পুরোনো লেপ মেরামত করাচ্ছেন, আবার কেউ নতুন লেপ তৈরি করাচ্ছেন শীতের প্রস্তুতির জন্য।
চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে যাদের পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। চিকিৎসকদের পরামর্শ—ভোর ও গভীর রাতে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা, গরম কাপড় ব্যবহার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।
শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষ। অনেক স্থানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাড়ানো গেলে শীতের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব পাবে।
হঠাৎ বেড়ে যাওয়া শীতের এই তীব্রতা তাই শুধু প্রকৃতির পরিবর্তন নয়, এটি হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। শীত যত বাড়বে, ততই প্রয়োজন হবে মানবিক সহযোগিতা ও সচেতনতার।

Leave a Reply