নওগাঁয় সরিষা ফুল থেকে ৪ কোটি টাকার মধু আহরণের প্রত্যাশা

নওগাঁয় সরিষা ফুল থেকে ৪ কোটি টাকার মধু আহরণের প্রত্যাশা

নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলায় সরিষা ক্ষেত থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু আহরণের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মধু থেকে অর্থনৈতিক আয়ের অধিক সম্ভাবনার কারণে নওগাঁ মৌ বাক্সে মধু আহরণের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। নওগাঁ জেলায় চলতি বছর ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষার ফুল থেকে মধু আহরণের জন্য অধিক উৎপাদিত ৬টি উপজেলায় ৭৭ জন মাওয়াল ৬০২৫টি মৌবাক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করছেন। অবনীত সরিষার মাঠ জুড়ে সারি সারি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন তারা।

প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে একবার মধু আহরণ করা হয়ে থাকে। চলতি মওসুমে স্থাপিত ৬০২৫টি মৌ বাক্সের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৯২০টি, আত্রাই উপজেলায় ৬৩৫টি, সাপাহার উপজেলায় ১৯০০টি, পোরশা উপজেলায় ১০০০টি, মান্দা উপজেলায় ১৪২০টি এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ১৫০টি বাক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের পাশে স্থাপিত এসব বাক্স থেকে স্থানীয় মধু ক্রেতারা যেমন খুচরা ভাবে মধু ক্রয় করেন আবার পাইকারিভাবে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও মধু বিক্রি করে থাকেন। এসব মধু নির্ভেজাল গাঢ় এবং সুমিষ্ট বলে জানান ক্রেতারা।

কৃষি বিভাগের দেয়া ধারণায় সরিষা চাষিরা মনে করেন সরিষার ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করলে পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ শায়লা শারমিন বলেছেন বিভিন্ন উপজেলায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মৌ বাক্সে মধু আহরণ তদারকী করে থাকেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ বলছে সরিষা ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করলে একদিকে যেমন পরাগায়নের ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকে মৌ চাষীরা। চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু আহরণের প্রত্যাশা রয়েছে যার আর্থিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষকৃত সরিষা ক্ষেতে আরও অধিক পরিমাণে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করলে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে অন্যদিকে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *