শীতে মাঠে ঘাস কম-চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু-ছাগলের খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি
শীতের কুয়াশাভেজা সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকার হুজরাপুর বাজারে থেমে থাকা একটি ভ্যান। ভ্যানে তোলা সবুজ ঘাস, কিন্তু সেই সবুজে নেই স্বস্তি বরং ভ্যান ঘিরে অর্ধশত মানুষের ভিড়। একজন মাত্র ঘাস বিক্রেতা, আর তাকে ঘিরে গরু-ছাগলের খাবার জোগাতে ছুটে আসা খামারি ও গৃহস্থদের তীব্র ব্যস্ততা। চলতি শীত মৌসুমে ঘাসের স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাঠ পর্যায়ে ঘাস উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। কুয়াশা, শিশির ও শীতল আবহাওয়ার কারণে ঘাস ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না। ফলে বাজারে দেশীয় ঘাসের আমদানি কমে গেছে। যেটুকু ঘাস আসছে, তা নিয়েই চলছে প্রকাশ্য কাড়াকাড়ি। ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গোমস্তাপুর উপজেলার এক খামারি বলেন, “গরু আছে চারটা। আব্দুল্লাহ জানান, তার ছাগল আছে কয়েকটি। প্রতিদিন ঘাস দরকার। কিন্তু শীত পড়ার পর থেকে ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। আধা বান্ডিল ঘাস পেতেই আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, দামও বেড়েছে।” ঘাস বিক্রেতা জানালেন, ভিন্ন বাস্তবতার কথা। তিনি বলেন, “শীতে মাঠে ঘাস উঠেই না। আগে দিনে দুই-তিন ভ্যান ঘাস তুলতাম, এখন এক ভ্যান জোগাড় করতেই কষ্ট হয়। ঘাস আনলেই মানুষ ভিড় করে।” ছবিতে দেখা যায়, ভ্যানের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ, কারও হাতে দড়ি, কারও হাতে বস্তা। কেউ দরদাম করছেন, কেউ অনুনয় করছেন। এই দৃশ্য শুধু একটি বাজারের নয়, এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে গবাদিপশু পালনকারীদের নীরব সংকটের প্রতিফলন। খামারিরা বলছেন, ঘাসের দাম বাড়লেও দুধ বা গবাদিপশুর ন্যায্য মূল্য বাড়েনি। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও আয় বাড়ছে না। অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন ঘাসের পরিমাণ কমিয়ে খড় কিংবা বিকল্প খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে। প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, শীত মৌসুমে ঘাস সংরক্ষণ, সাইলেজ ও বিকল্প পশুখাদ্য ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিলে প্রতি বছরই এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। এক ভ্যান ঘাস ঘিরে অর্ধশত মানুষের ভিড় যেন স্পষ্ট ভাষায় বলে দেয়, শীত চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনকেই কঠিন করে তুলছে না, গবাদিপশুর খাবার সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

Leave a Reply