চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট

চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট

চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে জমে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই হাটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শৈত্যপ্রবাহ আর শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত এই হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। সপ্তাহে প্রতি শুক্র ও সোমবার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই হাট বসে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি সাজানো মাটির হাঁড়ি বা ভাঁড়। সুমিষ্ট গন্ধে ম ম করছে চারপাশ। গাছিরা তাদের উৎপাদিত ঝোলা গুড় ও নলেন পাটালি নিয়ে হাটে আসছেন, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা দরদাম করে তা কিনে ট্রাকে লোড করছেন। এখানকার গুড় স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে মানভেদে ১২ থেকে ১৪ কেজির প্রতি ভাঁড় গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গুড়ের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, চিনির দাম বেশি থাকায় এবার গুড়ে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা নেই বললেই চলে, ফলে ক্রেতারা আসল গুড় কিনতে পারছেন। পাবনার ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক জানান, ‘হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করা যায়।’ তবে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বদরুউদ্দীন জানান, পুরনো গাছিরা মারা যাচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহী না হওয়ায় ভবিষ্যতে গুড়ের সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবার জেলায় গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। পুরো মৌসুমে এই হাট থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার গুড় কেনাবেচা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘কৃষকরা পরম যত্নে এখানে চিনিমুক্ত গুড় উৎপাদন করেন। আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে কঠোর নজর রাখছি। কেউ ভেজাল বা চিনিযুক্ত গুড় বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শীতের এই মৌসুমে সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। চৈত্র মাস পর্যন্ত এই সরগরম অবস্থা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *