গাইবান্ধায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা কারাগারে

গাইবান্ধায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপির তিন নেতা কারাগারে

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে বোনারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাঘাটা থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান। এরআগে মঙ্গলবার রাতে বোনারপাড়া বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মিয়া, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হাসান কবির এবং বোনারপাড়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন আহমেদ শিপন। তাদের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করেন সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সেলিম আহমেদ তুলিব। তিনি জানান, বিষয়টি অবগত আছি। সম্রাট মিয়াকে বহিস্কার করা হবে। মামলা সুত্রে জানা গেছে, সাঘাটার তেলিয়ান গ্রামের বিসিআইসির ডিলার শরিফুল ইসলাম মোল্লার মালিকানাধীন ‘মোল্লা এগ্রো ফার্ম’-এ মাছের প্রি-মিক্স খাদ্য উৎপাদন করা হয়। ‎অভিযুক্ত বিএনপির নেতারা কারখানায় গিয়ে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চান। কাগজ না থাকলে ২ লাখ চাঁদা দাবি করে। টাকা না পেয়ে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। মোল্লা এগ্রো ফার্মের মালিক শরিফুল ইসলাম মোল্লা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারখানায় এসে মেনেজার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যানেজারকে গালিগালাজ শুরু করে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে ম্যানেজার বিষয়টি আমাকে জানায়। আমি সেখানে গিয়ে জানতে চাই, কেন তাদের দুই লাখ টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে ওই তিন ব্যক্তির সাথে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে ম্যানেজার ও আমাকে তারা মারধর করে। পরে আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। ঘটনার পরেই আমি সাঘাটা থানায় লিখিত এজাহার করি। ‎‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় কারখানার মালিক শরিফুল ইসলাম মোল্লা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ ও দুই/তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। গ্রেপ্তারদের বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের তিনজনকে কারাগারে পাঠান।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *