কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড গোমস্তাপুরসহ তিন উপজেলা ॥ ব্যাপক ক্ষতি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকাসহ গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ৯.১০ মিঃ শুরু হয়ে ঘণ্টাখানেক স্থায়ী ঝোড়ো বাতাসে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায়। হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরের ভেতরে অবস্থান নেন। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় আম, কাঠাল ও গমের খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে আমের মুকুল ও ছোট আম ঝরে পড়ায় আমচাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক জায়গায় গমের ক্ষেত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। রহনপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় বড় বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, ঝড়ের সময় বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ে, ফলে কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি ওয়াইফাই ও ডিস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়টি খুব অল্প সময় স্থায়ী হলেও এর তীব্রতা ছিল অনেক বেশি। ফলে গাছপালা ভেঙে পড়া ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। এছাড়াও শত শত পাখি মারা গেছে। যা বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, আমের মৌসুমের শুরুতেই এমন ঝড়ে মুকুল ও ছোট আম ঝরে পড়ায় ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। হঠাৎ এই কালবৈশাখী ঝড় আবারও প্রমাণ করেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষের প্রস্তুতি ও অবকাঠামোর দুর্বলতা কতটা প্রকট। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখন দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Reply