শিবগঞ্জে মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষিকার জালিয়াতির অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে নিয়োগ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের চাকলা দাখিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষক-শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সিফাত আলী নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাকলা মাদ্রাসায় সরজমিনে কথা বলতে গিয়ে জালিয়াতির অভিযোগটি অস্বীকার করেন সহকারী শিক্ষিকা (আইসিটি) সাবিনা ইয়াসমিন ও সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ৬ এপ্রিল তদন্তের সময় দিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষিকা (আইসিটি) সাবিনা ইয়াসমিন নিয়োগকালে তিনি তাঁর কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সদনপত্রটি ভূয়া (জাল) দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন, ওই সনদ দিয়েই তিনি নিয়োগ নিয়েছেন। যা সরকারকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা গোপন করে জালিয়াতি করেছেন।

অন্যদিকে, সিফাত আলীর আরেকটি লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমান অপ্রাপ্ত বয়স্কতে তিনি নিয়োগ নিয়েছেন। যা তিনি নিজের বয়স গোপন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এছাড়াও সতত্যা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রতিবেদক চাকলা মাদ্রাসায় সরজমিনে গেলে মৌলভী মিজানুর রহমান ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে চাননি।এদিকে, শিক্ষক-কর্মচারীদের বিল ভাউচার অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমানের জন্ম তারিখ ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। আর তিনি এই মাদ্রাসায় যোগদান করেন ১৯৮৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর। জন্ম তারিখ আর চাকুরীর যোগদানের তাখির যোগ-বিয়োগ করলে এর ফল দাঁড়াবে ১৫ বছর ৭ মাস বয়সে তিনি চাকুরীতে যোগদান করেছেন। যা বাংলাদেশ সরকারের চাকুরীতে নীতিমালা পরিপন্থি। এব্যাপারে সহকারী শিক্ষিকা (আইসিটি) সাবিনা ইয়াসমিন প্রতিবেদককে বলেন, আমি চাকুরীতে যোগদানের পূর্বে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়েই যোগদান করেছি। তখন নিয়োগ বোর্ড তো আমার সনদ নিয়ে কোন প্রশ্নই করেননি। তাহলে এখন কেনো অভিযোগ বা জালিয়াতির কথা উঠছে? তারপরও আমি বলবো অভিযোগ হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করবেন, যদি আমার সনদের কোন ভূল পান, তাহলে কর্তৃপক্ষ যা ব্যবস্থা নিবেন, তা মেনে নিবো।অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক মৌলভী মিজানুর রহমান বলেন, আমাকে সরকার চাকুরী দিয়েছে, আমি চাকুরী করছি। এর বাইরে কোন কথা নাই আমার। এব্যাপারে চাকলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল সময় দেয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply