নওগাঁর পোরশায় নেশাগ্রস্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলেন বাবা

নওগাঁর পোরশায় নেশাগ্রস্ত ছেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করলেন বাবা

 

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় মাদকাসক্ত ছেলের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে তুলে দিলেন এক অসহায় বাবা। বুধবার পোরশা উপজেলার ছাওড় ইউনিয়নের নোনাহার পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পারভেজ (৩৪) নামে ওই যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নোনাহার পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহমুদুল নবীর ছেলে পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি নিয়মিত অবৈধ মাদক সেবন করতেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে উশৃঙ্খল আচরণ করতেন। তার এমন আচরণে পরিবারে অশান্তি ও এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পারভেজ প্রায়ই মাদক গ্রহণ করে বাড়িতে ভাঙচুর, হৈচৈ ও মারমুখী আচরণ করতেন। এতে তার পরিবারের সদস্যরা যেমন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন, তেমনি আশপাশের মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।
এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে তার বাবা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
আদালতে পারভেজ তার অপরাধ স্বীকার করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ছেলের মাদকাসক্ত আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে বাবা নিজেই তাকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন। আদালতে অভিযুক্ত তার দোষ স্বীকার করায় আইন অনুযায়ী তাকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মাদকের বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং পরিবার ও সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপ। তাই এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *