Blog

  • নবীগঞ্জে ‘সনাতন-দীননাথ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’র মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

    নবীগঞ্জে ‘সনাতন-দীননাথ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’র মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

    যুব সম্প্রদায় একটা দেশের সম্পদ ও চালিকা শক্তি। যে দেশের যুব সম্প্রদায় যতটা বেশি প্রশিক্ষিত ও কর্মঠ, সে দেশের অর্থনীতি ততটাই শক্তিশালী। হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সামাজিক সংগঠন ‘সনাতন-দীননাথ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’ আয়োজিত যুব সমাজ ও সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সংবর্ধিত ব্যক্তিত্বের বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন, জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হবিগঞ্জ জেলার উপ-পরিচালক একেএম আব্দুল্লাহ ভূঞা। বৃহস্পতিবার সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি দেবাশীষ দাশ রতনের সভাপতিত্বে ও সদস্য কনিক দাশ শুভর সঞ্চালনায় সভার শুরুতে প্রধান অতিথি ও সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব একেএম আব্দুল্লাহ ভূঞাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরন করে নেন সংগঠনের সদস্যবৃন্দ এবং পরে মানপত্র পাঠ করে শুনানো হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা রত্না দাশ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি সাগর দাশ, ট্রেজারার নিউটন দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় দাশ, দপ্তর সম্পাদক রাসেল মিয়া, নারী বিষয়ক সম্পাদক সীমা রাণী দাশ, সদস্য সজীব দাশ, গৌরাঙ্গ দাশ গৌরা, ঝুমা রাণী দাশ, পল্লবী রাণী দাশ, সাবিনা বেগম, সৃষ্টি রাণী দাশ, ওলী রাণী দাশ, সনাতন-দীননাথ কিশোর সংসদের সভাপতি তীর্থ দাশ, দপ্তর সম্পাদক গোপাল দাশ জিৎ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক দীপ শেখর দাশ, নিধু দাশ প্রমুখ। সব শেষে সংবর্ধিত অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, সংস্থাটি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের মুক্তাহার গ্রামে ছাত্র ও যুব সমাজকে নিয়ে বাল্য বিবাহ রোধ, ইভটিজিং ও মাদক বিরোধী সচেতনতা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সহ সমাজের অসঙ্গতিপূর্ণ বিষয় ও সমাজকল্যাণ মূলক কাজ করে যাচ্ছে।

  • ১০ নারী জলবায়ু নেত্রীকে ‘ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান

    ১০ নারী জলবায়ু নেত্রীকে ‘ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান

    পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য ১০ জন তৃণমূল নারী জলবায়ু নেত্রীকে সম্মাননা জানিয়ে ‘ক্লাইমেট চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫’-প্রদান করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। বুধবার ঢাকার একটি কনভেনশন সেন্টারে (আলোকি) দেশব্যাপী নারী নেতৃত্বাধীন ১০০টি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও)-এর অংশগ্রহণে অ্যানুয়াল কমিউনিটি অব প্র্যাকটিসেস নেটওয়ার্ক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন উদ্যোগ উপস্থাপনের এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়ে ওঠে এই নেটওয়ার্কটি, যা জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত “এমপাওয়ার: উইমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট সোসাইটিজ (২য় ফেইজ)” প্রকল্পের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রধান অতিথি বলেন, বড় বড় মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি নদীভাঙন ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকবে। মাইক্রো লেভেলে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ম্যাক্রো লেভেলে উন্নয়নের দর্শনও বদলাতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অভিযোজন উদ্যোগগুলোকে বড় আকারে সম্প্রসারণ করতে হবে। স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনীগুলোকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, এমপাওয়ার প্রকল্প আমাদের জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই দুটি লক্ষ্য একে অপরের পরিপূরক এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। আমরা বিশ্বাস করি, নারীরাই জলবায়ু কর্মকাণ্ডের আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রদানকারী। আপনারাই উদ্ভাবন করছেন, সংগঠিত করছেন এবং সম্প্রদায়ে পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইউএন উইমেন ও ইউএনইপি-র অংশীদারিত্বে সুইডেন গর্বিতভাবে এমপাওয়ার প্রকল্পকে সমর্থন করছে। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতা প্রধান দীপক এলমার বলেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অনুদান কমছে, জলবায়ু প্রভাব বাড়ছে, বৈষম্য বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ -বিশেষ করে নারীরা ও মাঠপর্যায়ের নেত্রীরা তা প্রমাণ করে চলেছেন। নেতৃত্ব সবসময় ওপর থেকে আসে না, আসে তাদের কাছ থেকে যারা কাজ করে, অভিযোজন করে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করে। এই কারণেই সুইজারল্যান্ড বিশ্বাস করে কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নে। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারীরাই তাঁদের সম্প্রদায়ের প্রকৃত সহনশীলতার চালিকা শক্তি। তাঁদের কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নেতৃত্বকে প্রসারিত করা টেকসই ও জলবায়ু-নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের জন্য অপরিহার্য। তিনি জেন্ডার-রেসপন্সিভ নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীরাই জলবায়ু সংকটের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে আছেন।” ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট কাজী রাবেয়া এমি এবং এমজেএফ-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাসরিন আহমেদ এমপাওয়ার প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রদর্শনীসহ দশটি স্টল সাজানো হয়। এছাড়া তিনটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়, পরিচালনা করেন সাবরিনা নওরিন, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, সিইডি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি; মো. শামসুদ্দোহা, চিফ এক্সিকিউটিভ, সিপিআরডি এবং সোমা দত্ত, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এমজেএফ। সেশনগুলোর আলোচ্য বিষয় ছিল – নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ফাইন্যান্সিং, নীতি, বাস্তবতা ও ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান (ঈঈএঅচ), এবং উইমেন’স লিডারশিপ ইন কালেকটিভ ক্লাইমেট অ্যাকশনস। সম্মেলন শেষে এক যৌথ অঙ্গীকারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়-যাতে বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতার যাত্রার কেন্দ্রে থাকে নারী।

  • নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

    পটুয়াখালীর বাউফলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাউফল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ গেটের সামনে বাউফল-বগা-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে এ কর্মসূচি পালিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন— ‘অবৈধ ট্রলি বন্ধ করো, করতে হবে”, “অবৈধ ট্রলি চলবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি। তাদের এ অবস্থানের ফলে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অবৈধ ট্রলির বেপরোয়া চলাচলের কারণে গত কয়েক বছরে বাউফলে অন্তত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। মাত্র তিন-চার দিন আগেও এক সেনা সদস্যসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তাদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সড়কে এসব অবৈধ ট্রলির চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

  • ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল ॥ মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ

    ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল ॥ মন্ত্রণালয়ের কঠোর পদক্ষেপ

    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের প্রকাশিত গেজেট তালিকা থেকে ১২৮ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র নাম বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কিছু জুলাই যোদ্ধা আহত নন, আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকে আহত হননি, এবং কয়েকজনের নামে একাধিক গেজেট প্রকাশিত হওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা বিশুদ্ধ করতে এবং প্রতারণা রোধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। গেজেট বাতিলের জন্য জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ১২৮ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গেজেটে দ্বৈততার কারণে ২৩ জন এবং আহত নন অথবা আন্দোলনে সম্পৃক্ত নন এমন ১০৫ জনের গেজেট বাতিল প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

  • সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮৪ মে.টন চাউল আটক ॥ শুল্ক ফাঁকি দেয়ার ষড়যন্ত্র ॥ বিভাগীয় মামলা

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮৪ মে.টন চাউল আটক ॥ শুল্ক ফাঁকি দেয়ার ষড়যন্ত্র ॥ বিভাগীয় মামলা

    মিথ্যা তথ্য দিয়ে ‘বাসমতি’ চাল আমদানী

    সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৮৪ মে.টন চাউল আটক ॥ শুল্ক ফাঁকি দেয়ার ষড়যন্ত্র ॥ বিভাগীয় মামলা

    দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার ষড়যন্ত্র করে সাধারণ চাউল (নন বাসমতি) এর ঘোষণা দিয়ে উচ্চ মুল্যের ‘বাসমতি’ চাউল আমদানী করার অভিযোগে স্থলবন্দর দিয়ে আসা ভারতীয় ২টি ট্রাকের ৮৪ মে. টন চাউল আটক করেছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জব্দকৃত চাউল ‘বাসমতি’-পরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অবৈধ কাজের সাথে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের অসাধূ কিছু আমদানীকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং কাস্টমস এর কিছু অসাধূ কর্মকর্তার যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা। এর আগে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের চোখে ফাঁকি দিয়ে এরকমভাবে শুল্ক ফাঁকি দেয়া, এক পণ্য নিয়ে এসে, অন্য পণ্যের ট্যাক্স দিয়ে পণ্য খালাসের মত অবৈধ কার্যক্রম সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তাদের দাবী, এসব অবৈধ কার্যক্রমের সাথে জড়িত আমদানীকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্থলবন্দরের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও সংঘবন্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর কে সুষ্ঠভাবে পরিচালনার। তবে, সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তথ্য গোপন করে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার হীন উদ্যেশ্যে নিয়ে আসা ৮০ মে.টন বাসমতি চাউল জব্দ করে রাখা হয়েছে এবং পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে এই অবৈধভাবে চাউল আমদানীর কারণে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সতর্ক দৃষ্টি রেখেই সকল কার্যক্রম পরিচালান করছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১৩.০০.০০০০.০০০.০৪৪.০৭.০০১৭.২৫.২৩৫ নম্বর স্মারকে গত ১০ আগষ্ট/২৫ তারিখে বেসরকারী পর্যায়ে সিদ্ধ চাল ও আতপ চাল আমদানীর জন্য নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করে ১৪২ নম্বর সিরিয়ালে ৫০০ মে্িট্রক টন চাল- ‘এম রহমান অটো রাইস মিল, জামতলা, আমনুরা রোড, নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কে। প্রেক্ষিতে উক্ত বরাদ্দের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) মহাদীপুর-সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে টচ-১৭অঞ-৪৫৩০ ও চইটউক-৮৫৬৩ নং ভারতীয় ট্রাকে ‘শশী ট্রেডার্স’ নামে সিএনএফ এজেন্টের মাধম্যে ‘এম রহমান অটো রাইস মিল, জামতলা, আমনুরা রোড, নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নন বাসমতি চাউল এর ঘোষণা দিয়ে ‘বাসমতি’ চাউল আমদানী করে এবং রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছিলো। আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমদানী করে আনা চাউল পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ভিরত প্রবেশ করে। কিন্তু সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে আমদানীকৃত চাউল ট্রাক আনলোড করে পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ৫ নং গোডাউনে রাখেন। পরবর্তীতে সিএন্ডএফ ও আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাধা দিলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চাউল ল্যাবে টেষ্টের জন্য পাঠান। ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করার পরে সত্য তথ্য প্রকাশ করে ল্যাব ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যা শতভাগ বাসমতি চাউল প্রমাণিত হয়েছে। এদিকে, অবৈধভাবে আনা বাসমতি চাল ছাড় করিয়ে নেয়ার জন্য আমদানীকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট, এবং স্থলবন্দরের অসাধু নেতৃবৃন্দ নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে পরীক্ষার পর আমদানী করা চাউল বাসমতি বলে প্রমানিত হওয়ায় চাউলগুলো কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আটক রাখা হয়েছে। এব্যাপারে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি সুত্র জানায়, এই ৮৪ মে.টন চাউল মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে পারলে এই অসাধু চক্রটি সরকারকে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিত এবং এই অর্থ ওই চক্রের মাঝে ভাগ বাটোয়ার হতো। সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার ওমর মবিন বুধবার (২৯ অক্টোবর) ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে জানান, ‘শশী ট্রেডার্স’ নামে সিএনএফ এজেন্টের মাধম্যে জাহ্গাীর নামের একজন সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘এম রহমান অটো রাইস মিল, জামতলা, আমনুরা রোড, নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নন বাসমতি চাউল এর ঘোষণা দিয়ে ‘বাসমতি’ চাউল আমদানী করে এবং রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছিলো। অবৈধভাবে বাসমতি চাল আমদানির অভিযোগে গত ২৩ অক্টোবর ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ মেট্রিক টন চাল জব্দ করে সোনামসজিদ কাস্টমস। সোমবার (২৭ অক্টোবর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েটে চালের নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে জব্দ করা চাউলগুলো ‘বাসমতি’। ‘শশী ট্রেডার্স’ এর প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ জাহাঙ্গীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার ওমর মবিন। তিনি আরও বলেন, বাসমতি চাউলগুলোর রাজস্ব প্রায় ১ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। নন বাসমতি চালের রাজস্ব ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা মাত্র। কোনভাবে চাউলগুলো ছাড় হয়ে গেলে প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হতো। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আসলে চালগুলো বাসমতি ছিল। বাসমতি চাল আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিয়ে সাধারণ চাল বলে বাসমতি চাল আমদানি করেছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারীতে সেটা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এই অবৈধ চাউল আমদানীর জন্য বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট চাউল আমদানী কারক প্রতিষ্ঠান যদি খাদ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় কাছ থেকে কোকভাবে প্রয়োজনীয় সরকারী নীতি মোতাবেক শুল্ক দিয়ে চাউলগুলো ছাড় করতে পারে, তাহলে ১ কোটি ৪৪ লক্ষা দিয়ে ছাড় করতে হবে। তিনি বলেন, তবে এটা সম্ভব না হওয়ারই কথা, কারণে বাসমতি চাউল আমদানীর কোন আদেশই দেননি খাদ্য মন্ত্রণালয়। কোন অসাধূ চক্র স্থলবন্দরে কোন অবৈধ কার্যক্রম চালাকে পারবে না উল্লখ করে তিনি বলেন সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর কে পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘শশী ট্রেডার্স’ এর প্রতিনিধি হিসেবে মোঃ জাহাঙ্গীরের নাম পাওয়া গেলেও মোঃ জাহাঙ্গীর বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমি প্রায় ১৫ বছর আগে ‘শশী টেডার্স’ এর লাইসেন্স এ কাজ করতাম। তারপর ইউসুফসহ আরও কয়েকজন কে অথরাইজেশন দেয়া হয়। তিনি বলেন, আমি অনেক আগেই সিএন্ডএফ এজেন্ট এর কার্যক্রম ছেড়ে দিয়েছে। আমি এসবের মধ্যে জড়িত নই। কেউ আমাকে জড়িয়ে তথ্য দিয়ে থাকলে সেবা মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে এব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাজশাহী কাস্টমস, লাইসেন্স শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত, মোঃ আরিফ হোসেনর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অফিসের বাইরে থাকায় সকল তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সম্ভবত বর্তমানে ইউসুফ নামে একজন শশী ট্রেডার্স এর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে, ‘শশী ট্রেডার্স’ এর স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ মুরাদ এর সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ‘শশী টেডার্স’ এর সিএন্ডএফ এজেন্ট এর স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ মুরাদ এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, একটি বিশেষ সুত্র জানায়, সিএন্ডএফ এজেন্ট এর স্বত্বাধিকারী ওয়াহেদ মুরাদ এর ‘শশী টেডার্স’ এর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাসটমস কর্তৃক কোন ‘সাইনিং অথারিটি’ নেই। বিধায় এখানেও একটি প্রতারণা বা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এই বাসমতি চাল আমদানী ও খালাসের চেষ্টা করা হয়। নন বাসমতি চাউল এর ঘোষণা দিয়ে ‘বাসমতি’ চাউল আমদানীর বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এ্যাসেসিয়েশনের সাবেক এক নেতা বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে এধরণের কিছু অসাধূ আমদানীকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মাঝে মধ্যেই পণ্য আমদানী করছেন। যা, রীতিমত আইনগত অপরাধ এবং সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্যেশ্য। সম্প্রতি জেলারই একটি প্রতিষ্ঠান ‘এম রহমান অটো রাইস মিল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নন বাসমতি চাউল এর ঘোষণা দিয়ে ‘বাসমতি’ চাউল আমদানী করেছে এবং রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু সোনামসজিদ কাস্টমস বিষয়টি জানতে পেরে চাউলগুলো জব্দ করে এবং পানামা’র গোডাউনে গুদামজাত করে রাখে। পরে চাউলগুলো টেষ্টের জন্য পাঠালে টেস্টে অবৈধভাবে আমদানী করা চাউল ‘বাসমতি’ হিসেবে প্রমান হয়। ফলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে এধরণের অবৈধ কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ায় সরকার রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চি হচ্ছে, অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর এর সুমান ক্ষুন্ন হচ্ছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে বৈধভাবে করা ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি হচ্ছে, নানা প্রশ্নেরও সম্মুখিন হচ্ছেন। অন্যদিকে, এধণের অবৈধ কার্যক্রম (যেমন-কমদামী পণ্যের ঘোষণা দিয়ে, বেশী শুল্কের পণ্য আমদানী বা এক পণ্য নিয়ে এসে অন্য পণ্যের ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে পণ্য খালাসের ঘটনাও ঘটেছে, এমন অভিযোগও রয়েছে। কাজের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সুমান ধরে রাখতে এসব অসাধূ আমদানীকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের বৈধভাবে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবীও করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের হয়রানী করছেন। আমরা কখনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে কোন পণ্য আমদানী করি না বরং আমদানীর করার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও বন্দর নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসা করে আসছি। তিনি আরো বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সাধারণ চাউলকে বাসমতি চাউল বলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের হয়রানীর করার জন্য ল্যাবে পরীক্ষা নামক শব্দ ব্যবহার করেন। পরীক্ষায় জব্দকৃত চাউল ‘বসমতি’-এমন প্রশ্নে কিছুটা উদ্বেগিত হয়ে তিনি আরও বলেন, যদি কোন আমদানীকারক মিথ্যা তথ্য দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করে এবং অবৈধ কাজ করে থাকেন, তাহলে সেই আমদানীকারক ও জড়িত সিএন্ডএফ এজেন্ট এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযুক্ত আমদানীকারক ও জড়িত সিএন্ডএফ এজেন্ট কোন স্থলবন্দর দিয়েই আর কোন আমদানী করতে পারবে না। এব্যাপারে জানতে আমদানী-রপ্তানীকারক এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একরামুল হক এর সাথে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এদিকে, চাউল আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান ‘এম রহমান অটো রাইস মিল, জামতলা, আমনুরা রোড, নয়াগোলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, এর বর্তমান স্বত্তাধিকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন (সাগর)। তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, একটি সুত্রে জানা যায়, তিনি বর্তমানে উমরাহ হজে আছেন। বিধায় উনার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে, ওই সুত্রটি জানিয়েছে, জামতলায় এম রহমান নামে আরও একটি অটো রাইস মিল রয়েছে, চাউলগুলো সেই প্রতিষ্ঠানেরও হতে পারে। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হতে পারলে আরও ভালো হতো।

  • নিয়ামতপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও আলোচনা সভা

    নিয়ামতপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও আলোচনা সভা

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করার লক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক এস. এম. সিরাজুল ইসলাম। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের দপ্তর সম্পাদক সারোয়ার জাহানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুর রহমান ও যতীন্দ্রনাথ বর্মনসহ অন্যরা। এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানরা উপস্থিত ছিলেন। ‎প্রধান অতিথি এস. এম. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিতের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে হবে, তাহলেই দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক পদে রদবদল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক পদে রদবদল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক পদে রদবদল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের পরিদর্শক পদে রদবদল হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম-সেবা এর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টেবর) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাগণকে বিভিন্ন থানা/ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাগণ হচ্ছেন-ডিআইও-১ ডিএসবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোঃ ওবাইদুল হক। তাঁকে ইনচার্জ পুলিশ হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। অফিসার ইনচার্জ সদর মডেল থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোঃ মতিউর রহমান কে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। মোঃ শাহীন আকন্দ অফিসার ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। মোঃ মনিরুল ইসলাম অফিসার ইনচার্জ নাচোল থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে জেলা গোয়েন্দা শাখা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। মোঃ মুজিবুর রহমান কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সদর কোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে ইনচার্জ অপরাধ শাখা, পুলিশ অফিস চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। মোঃ শহিদুল্লাহ্ ইনচার্জ, অপরাধ শাখা পুলিশ অফিস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সদর কোর্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। মোঃ শহিদুল ইসলাম অফিসার ইনচার্জ ভোলাহাট থানা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে অফিসার ইনচার্জ নাচোল থানা, হিসেবে বদলী করা হয়েছে। মোঃ এমাদুল করিম পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ওআর হেডকোয়ার্টার্স, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে পুলিশ পরিদর্শক জেলা গোয়েন্দা শাখা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে এবং মোঃ শাহা আলম মোল্লা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কে ডিআইও (২), ডিএসবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হিসেবে বদলী করা হয়েছে। এ আদেশ জনস্বার্থে করা হলো যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয় ওই আদেশে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম-সেবা ‘চাঁপাই দর্পণ’ কে জানান, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে পরিদর্শকদের বদলী করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সুন্দর রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে রদবদল হওয়া কর্মকর্তাগণ বলেও জানান তিনি। জেলার সার্বিক বিষয়ে জেলাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন পুলিশ সুপার। উল্লেখ্য, গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনসহ সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম-সেবা।

  • চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় জামিন পেলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক

    চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় জামিন পেলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক

    চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় জামিন পেলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক

    চেক প্রত্যাখ্যান (ডিজঅনার) মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকার অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে চাইনিজ রফিক জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক আবুল বাসার মো. নাহিদুজ্জামান শুনানি শেষে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়েরের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানিকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আসামিপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা ট্রেজারিতে জমা দিয়ে জামিন আবেদন করা হয়। আইনজীবী নূরে আল সিদ্দিকী আসাদ বলেন, রায়ের পর অর্থদণ্ডের অর্ধেক পরিমাণ অর্থ জমাপূর্বক আদালতে রফিকুল ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আপিলের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে আপিল করা হবে।

    এদিকে, জামিন পেয়ে আদালত চত্ত্বরে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দোসর হাম্মাদ আলী মিথ্যা মামলা দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিএনপির কিছু নেতা ফ্যাসিস্টের দোসরের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে রায় দেন আদালত। বিচার বিভাগে এখনও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা আশা করেছিলাম বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে কিন্তু সেটা হয়নি। এর আগে গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) রফিকুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেন। মামলার বাদী ব্যবসায়ী হাম্মাদ আলী জানান, তিনি রফিকুল ইসলামকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ৪০ লাখ টাকা ধার দেন।

    টাকা ফেরত না পেয়ে তাগাদা দিলে রফিকুল ইসলাম প্রাইম ব্যাংকের চারটি চেক (প্রতি চেক ১০ লাখ টাকার) মাধ্যমে পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ হাম্মাদ আলী এই মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত গত সপ্তাহে রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর হলেও আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।”

  • হৃদয় জুড়ানো এমন এক চমৎকার আবহাওয়া

    হৃদয় জুড়ানো এমন এক চমৎকার আবহাওয়া

    হৃদয় জুড়ানো এমন এক চমৎকার আবহাওয়া

    ‘নাই গ্রীষ্মের গরমের অস্থিরতা, নাই বর্ষার বিরক্তি, নাই শীতের কষ্টের অনুভূতি’ প্রকৃতি এখন এক অপূর্ব মিতালির ঋতুতে দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে নেই কোনো উত্তাপ, নেই শীতলতারও তীব্রতা; আছে এক মোলায়েম ছোঁয়া, যা হৃদয়কে জুড়িয়ে দেয়।’ এই সময়টাকে বলা চলে প্রকৃতির শান্ত রূপের উদ্ভাস। সকাল বেলার নরম রোদে গাছের পাতায় শিশিরের ঝিলিক, দুপুরে হালকা হাওয়ায় পাতার মৃদু দোল, বিকেলে গোধূলির লাল আভায় আকাশের মায়া, সব মিলিয়ে চারপাশে এক অন্যরকম প্রশান্তি ছড়িয়ে থাকে। এ সময়ে মানুষের মনে জেগে ওঠে এক অজানা আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা, জীবনের ক্লান্তি—সব কিছুর মধ্যেও একটু যেন থেমে যায় মন। চায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যেতে, নদীর ঘাটে বসে বাতাসে মিশে যেতে, কিংবা ছাদে বসে এক কাপ গরম চায়ের সাথে সূর্যাস্ত দেখতে। প্রকৃতি যেন এই মুহূর্তে প্রেমিকের মতো আপন করে টানে। সূর্যরশ্মি এখন আর কষ্ট দেয় না বরং আলতো করে ছুঁয়ে যায় গায়ে। বাতাসও নয় কনকনে ঠান্ডা, তবু সে মনের ভেতর এক অদ্ভুত স্বস্তি এনে দেয়। এই সময়ে গ্রামীণ প্রান্তরে দেখা যায় সবুজের সজীবতা, পাখির কণ্ঠে ধরা দেয় মুক্তির গান। মাঠের প্রান্তে কচি ঘাসে শিশিরবিন্দু, দূর আকাশে তুলোর মতো মেঘ ভাসে, এ যেন প্রকৃতি নিজেই এক কবিতা লিখছে, যার প্রতিটি পঙ্ক্তি সুখের পরশে ভরা। এই আবহাওয়ায় মনও যেন নতুন করে বাঁচতে শেখে। ভুলে যায় ক্লান্তি, মনে পড়ে যায় প্রিয় মুখ, জেগে ওঠে নতুন কোনো স্বপ্ন। প্রকৃতি যেন মানুষকে শেখায় সব কিছুরই সময় আছে, আর প্রতিটি সময়ই নিজের মতো করে সুন্দর। হয়তো এটাই সেই ক্ষণ, যখন প্রকৃতি চায় আমরা একটু থামি, একটু শ্বাস নিই, আর বুঝে নেই জীবনের আসল সৌন্দর্য। না গরম, না বর্ষা, না শীত শুধু এক হৃদয় জুড়ানো চমৎকার আবহাওয়া, যা মনে করিয়ে দেয়—জীবন এখনই, এই মুহূর্তেই সবচেয়ে সুন্দর।

  • গোদাগাড়ীতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    গোদাগাড়ীতে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে যুবদলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক পালিতে হয়েছে। গোদাগাড়ী কাকনহাটে মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দীন নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছেন। অপরদিকে গোদাগাড়ী পৌর সদরে আব্দুস সালাম সাওয়ালের সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্জ মজিবুর রহমান, আনারুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান (মিলন), এ্যড. সুলতানুল ইসলাম তারেক, অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সালাম বিপ্লব। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোদাগাড়ী পার্টি অফিসে রক্তদান কর্মসূচী ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এসময় যুবদলের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মী অংশ নেয়।