মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ভবনে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করেছে। ৩০ অক্টোবর “জলবায়ু অভিযোজনে গ্রামীণ নারী” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এই আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, সাংবাদিক ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারী কৃষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফারিদা আখতার। তিনি বলেন, নারীদের প্রায়ই এমনভাবে সরিয়ে রাখা হয় যে, সার্চ ইঞ্জিনও তাদের অবদানের খোঁজ পাওয়া যায় না। এমন না যে নারীরা নেই, কিন্তু আমরা তাদেরকে সামনে আনি না। তিনি বলেন, মাইক্রো লেভেলে আমরা গ্রামীণ নারীদের পাই। তাদের অবদানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার। গ্রামীণ নারীদের সাথে নিয়ে আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারব না। উপদেষ্টা আরও বলেন, আমাদের জেলারা প্রাপ্য মজুরি পায় না, দাদন প্রক্রিয়ার কারণে। এটি একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে তারা পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। এই প্রক্রিয়ার অবসান জরুরী। সাথে সাথে জেলে পরিবারের নারীদের স্বীকৃতিও জরুরি। স্বাগত বক্তব্যে এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন,

“বাংলাদেশের কৃষি ও কমিউনিটির টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো গ্রামীণ নারী। তাদের জ্ঞান, শ্রম ও নেতৃত্বই জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুখ্য ভূমিকা রাখছে। এমজেএফের প্রজেক্ট অফিসার (ক্যাম্পেইন ও কমিউনিকেশন) তাজওয়ার মাহমিদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। যেখানে তিনি তুলে ধরেন যে গ্রামীণ বাংলাদেশের কর্মরত নারীদের ৮৫.৮ শতাংশ কৃষিকাজে যুক্ত, যেখানে পুরুষের হার মাত্র ৩৪ শতাংশ। এছাড়া, নারীরা সপ্তাহে গড়ে ৬৮ ঘণ্টা সময় দেন গৃহস্থালির বাগান পরিচর্যায়, যা পারিবারিক পুষ্টি ও পরিবেশ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমজেএফ মিডিয়া ফেলোশিপের ফলাফল অনুযায়ী, কৃষিক্ষেত্রে একই কাজের জন্য নারীরা পুরুষদের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম মজুরি পান। অনুষ্ঠানে “কৃষিতে নারীর ভূমিকা” শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়, যেখানে ফসল উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যচাষ ও কমিউনিটি-নেতৃত্বাধীন জলবায়ু অভিযোজন প্রচেষ্টা তুলে ধরা হয়। এরপর পাহাড়, চর, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের নারী কৃষক ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা নারীর ভূমিকা, নীতিমালা ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভূমি, অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সিদ্ধান্তগ্রহণে তাদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোকপাত করেন। এমজেএফ-এর পরিচালক-রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্স প্রোগ্রামস বনশ্রী মিত্র নিয়োগী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। একটি সম্মিলিত আহ্বানের মাধ্যমে-গ্রামীণ নারীকে জলবায়ু অভিযোজনের মূল নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে জাতীয় উন্নয়ন ও জলবায়ু কর্মপরিকল্পনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গীকারে অনুষ্ঠান শেষ হয়।