Blog

  • নাটোরের সিংড়ায় মিঠুন হত্যাকান্ড ॥ প্রধান আসামি নিক্সন গ্রেপ্তার

    নাটোরের সিংড়ায় মিঠুন হত্যাকান্ড ॥ প্রধান আসামি নিক্সন গ্রেপ্তার

    নাটোরের সিংড়া উপজেলার পেট্রো বাংলা এলাকায় মিঠুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল ইসলাম নিক্সন (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৫। ২০ অক্টোবর আনোয়ারা বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে পারিবারিক বিরোধের জেরে মিঠুন নামে এক চা বিক্রেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত মিঠুন আসামি নিক্সনের শ্যালক। অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই র‌্যাব-৫, সিপিসি-২ নাটোর ক্যাম্পের একটি দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-৪, সাভার ক্যাম্পের সহযোগিতায় ঢাকার আশুলিয়ার খেজুরবাগ এলাকা থেকে নিক্সনকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিক্সন হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ ও টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
    গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আশুলিয়া থানার মাধ্যমে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব-৫ জনগণকে মাদক, অস্ত্র ও জঙ্গিমুক্ত সমাজ গঠনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

  • রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্পে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজধানীর জেনেভা ক্যাম্পে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ‘ককটেল’ বিস্ফোরণে মো. জাহিদ (২০) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে,
    জাহিদ জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। রাজধানীর কল্যাণপুরে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের একটি দোকানে কাজ করতেন তিনি। নিহত তরুণের পরিবার জানায়, ভোরে জেনেভা ক্যাম্পের ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি চলছিল। সে সময়ে জাহিদ বাসা থেকে বাইরে বের হন। একটু সামনের দিকে এগিয়ে যান। তখন একটি ককটেল এসে তার মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
    জাহিদকে প্রথমে স্থানীয় ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছিল। পরে জাহিদকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। ভোর সাড়ে চারটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন সেখানকার চিকিৎসক। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

  • গাইবান্ধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাইজিং ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন

    গাইবান্ধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাইজিং ক্যাম্পেইন কর্মসূচির উদ্বোধন

    রেকিট-বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় গণ উন্নয়ন কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, খাদ্য নিরাপত্তা, রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে হাইজিং ক্যাম্পেইন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার শহরের গণ উন্নয়ন কেন্দ্র রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সম্মেলন কক্ষে গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রধান এম. আবদুস্সালাম এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাস, রেকিট-বাংলাদেশ হেড অব পার্টনারশীপ সালাহউদ্দিন আহমেদ, ম্যানেজার এক্সনারনাল এ্যাফেয়াস রাকিব উদ্দিন। এ সময় অতিথিবৃন্দ শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থী সহায়ককা রিকুলাম বই এর মোড়ক উন্মোচন করেন।

  • বেনাপোলে যুবদলের প্রস্তুতি সভা ॥ হাজারো নেতা-কর্মীর ঢল

    বেনাপোলে যুবদলের প্রস্তুতি সভা ॥ হাজারো নেতা-কর্মীর ঢল

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র একটি যুব অঙ্গ সংগঠন যুবদল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দু’মাসের মাথায় ২৭ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন জাতীয়তাবাদী যুবদল। বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আছেন সভাপতি-আব্দুল মুনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন নুরুল ইসলাম নয়ন। ২৭শে অক্টোবর/২০২৫ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বেনাপোলে যুবদলের প্রস্তুতী সভা হয়েছে। শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি’র শ্লোগান নিয়ে বুধবার বিকেলে যশোর জেলার শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর যুবদল কর্তৃক আয়োজিত বেনাপোলের ঐতিহ্যবাহী পৌর বিয়েবাড়ীতে শার্শা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুবদলের প্রস্তুতী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন-যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা।
    প্রধান অতিথি বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশ আর পরনির্ভরশীল হবে না, আওয়ামীলীগের শাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র সংস্কারের ইশতেহার ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ঘোষণা করা হয়। এই দেশকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো বিকল্প নেই, তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপিই পারবে এ দেশকে এগিয়ে নিতে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, “ইনশাআল্লাহ”। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,শার্শা উপজেলা যুবদল অতিতে যেমন ভাবে বিভিন্ন আন্দোলন,সংগ্রামে নিজেদের ঐক্য ধরে রেখে দলের জন্য সাফল্য এনেছিল, আগামী ২৭ অক্টোবর যশোর জেলা যুবদলের উদ্যোগে যশোরে যুবদলের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপণ সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতী সভায় উপস্থিত সকল নেতা-কর্মী’র প্রতি উদাত্ব আহবান জানান। সহস্র নেতা-কর্মী’র উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি বর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-শার্শা উপজেলা বিএনপি’র প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি-আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক-নুরুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও শার্শা’র সাবেক সাংসদ-মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সভাপতি-মো.নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক-আবু তাহের ভারত, যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক ইমদাদুল হক ইমদাদ, শার্শা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক-মো.শহিদুল ইসলাম। এ ছাড়াও অংশ নেন-শার্শা উপজেলা ছাত্রদল আহবায়ক-শরিফুল ইসলাম চয়ন ও সদস্য সচিব-সবুজ খান,বেনাপোল পৌর ছাত্রদল আহবায়ক-আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদস্য সচিব-ইশতিয়াক আহম্মেদ শাওন সহ শার্শা উপজেলা ১১ টি ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর বিএনপি’র অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে যুবদলের একটি বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সভাস্থল পৌর বিয়েবাড়ী থেকে শুরু করে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে বেনাপোল বাজারস্থ দুর্গাপুর মোড়ে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন যৌথভাবে, বেনাপোল পৌর যুবদল আহবায়ক মফিজুর রহমান বাবু ও সদস্য সচিব রায়হানুজ্জামান দিপু।

  • মান্দায় তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ॥ ২ জনের মৃত্যু ॥ আহত ৪

    মান্দায় তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ॥ ২ জনের মৃত্যু ॥ আহত ৪

    নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় তিনটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দু’জনের মৃত্যু ও চারজন আহত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাতবাড়িয়া (মীরপুর) এলাকার মিলনের ইটভাটা সংলগ্ন নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কে এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, উপজেলার গণেশপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে তুহিন (২০) ও এমদাদুল হকের ছেলে ইয়ামিন আলী (২০)। আহত চারজন হলেন, মীরপুর গ্রামের নেকবর আলীর ছেলে আশিক (২০), গণেশপুর গ্রামের আফতাবের ছেলে সাদিক (২০), সবুজের ছেলে তরুণ (২০) এবং শ্রীরামপুর গ্রামের আমজাদের ছেলে আনোয়ার (২০)। মান্দা থানার ওসি আবু রায়হান বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, হতাহতরা সবাই বন্ধু। তিনটি মোটরসাইকেলে করে সতীহাট এলাকা থেকে তারা ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। মিলনের ইটভাটা এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাকি দুটি মোটরসাইকেলের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তুহিন মারা যান। ইয়ামিনকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

  • নওগাঁয় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা সভা

    নওগাঁয় অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা সভা

    নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে বৃহস্পতিবার অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগ প্রতিরোধে এক জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সভা আয়োজিত হয়। প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইবনুল আবেদীন বলেন, তড়কা রোগকে ‘মারাত্মক পশুবাহিত রোগ’ উল্লেখ করে অসুস্থ গরু জবাই না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেন। তিনি মাংস ব্যবসায়ীদের রোগমুক্ত পশুর প্রত্যয়নপত্র সঙ্গে রাখার এবং সরকারি বিধি মেনে গরু জবাই করার অনুরোধ জানান। ইউএনও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এই নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন এবং উপস্থিত সকলকে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও মাংস ব্যবসায়ীরা।

  • সাব-জেলে বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে- গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তা কারাগারে

    সাব-জেলে বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে- গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তা কারাগারে

    সাব-জেলে বন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে

    গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তা কারাগারে

    গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে বুধবার (২২ অক্টোবর) আদালতে হাজির হলে ওই কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল। বুধবার সকালে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে গুম-খুন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসের ‘সাব-জেল’ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হয়। পরে আদালত ওই কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে সাতদিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

    এ তিন মামলায় ২৫ জন সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামি। তাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়ার তথ্য জানা যায়। আওয়ামীলীগের শাসনামলে গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১৫ সেনা কর্মকর্তা যে সাব-জেলে (অস্থায়ী কারাগার) আছেন সেটি কারা কর্তৃপক্ষেরই তত্ত্বাবধানে থাকবে। কারাবিধি অনুযায়ী তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব কারা অধিদপ্তরের এবং তাদের খাওয়া-দাওয়াও এই নিয়মে কারাগার থেকে দেওয়া হবে। বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে আদেশের পর তাদের ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডে সাব-জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আইজি প্রিজন জানান, ওই বন্দিদের নিরাপত্তায় কারাগার থেকে কারারক্ষী ও কর্মকর্তা নিযুক্ত হয়েছেন। কারা বিধি অনুযায়ী বন্দিদের দেখাশোনার দায়িত্ব কারা অধিদফতর থেকেই এবং তাদের খাওয়া-দাওয়াও একই নিয়মে কারাগার থেকেই দেওয়া হবে। তাদের কোনো স্বজন দেখা করতে চাইলেও অনুমতি সাপেক্ষে কারাবিধি অনুযায়ী দেখা করার ব্যবস্থা করা হবে। বাইরে থেকেও কোনো খাবার দেওয়া হলেও এই বিধি অনুযায়ী পরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলো দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর/২৫ ঢাকা সেনানিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন। চার্জশিটে প্রায় ২৫ সেনা কর্মকর্তার নাম এসেছে। এর মধ্যে অবসরে আছেন নয়জন, এলপিআরে একজন এবং কর্মরত আছেন ১৫ জন। যারা অবসরে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে আমাদের সেনা আইন প্রযোজ্য নয়। আদালতের আদেশে সাব-জেলে বন্দি ১৫ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, র‌্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল, র‌্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এখন অবসরকালীন ছুটিতে), র‌্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) কর্নেল কে এম আজাদ ও র‌্যাবের সাবেক পরিচালক (ইন্টেলিজেন্স উইং) কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। এছাড়া, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল শেখ মো. সারওয়ার হোসেন, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক, বিজিবির সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর রাফাত বিন আলম মুন।

  • নাচোলে ৫টি ভূমিহীন পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    নাচোলে ৫টি ভূমিহীন পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    নাচোলে ৫টি ভূমিহীন পরিবারের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মারধরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ভূমিদস্যুদের আক্রমনে ৫টি ভূমিহীন পরিবারের ঘর-বাড়ি ভাংচুর, মারধর ও উচ্ছেদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা। বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাচোল উপজেলা রিপোটার্স ইউনিটির অফিস কক্ষে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভাতসা গোবিন্দপুর গ্রামের ভুক্তভোগী সাহাবুল, গেদুল, আফেরা বেগম, আশিক ও রানা সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁরা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, উপজেলার নাচোল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ভাতসা (গোবিন্দপুর) গ্রামের আমরা গরিব, অসহায় ও ভূমিহীন পরিবার ভাতসা মৌজার সরকারী ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত জমির ৪৪৯নং দাগে দীর্ঘদিন যাবত ঘরবাড়ি নির্মান করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলাম। গত ১৫ অক্টোবর একই গ্রামের রেজাউল, মজিদুল ও সহিদুল, পিতা-খলিলুর রহমান, আব্দুল লতিব ওরফে বুলবুল, পিতা-জাব্বার, তাইফুর রহমান, পিতা-মৃত লুৎফর রহমান, মিজানুর রহমান, পিতা-আব্দুল হামেদ, সুমন, পিতা আমিনুল হক, মোসাহাক, পিতা মৃত ইসাহাক, মোঃ রবিউল, পিতা আঃ রাজ্জাক ও লালচান, পিতা আব্দুল গাফ্ফার আদালত বা সরকারী কোন আদেশ ছাড়াই বেআইনিভাবে তাদের লোকজন নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অতর্কিতভাবে ঘরবাড়ি ভাংচুর শুরু করে। ওইসময় ভুক্তভুগিরা তাদেরকে বাধা দিতে গেলে পুরুষ ও নারীদেরকে মারধোর করে এবং মাটিতে লুটিয়ে ফেলে এবং নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ঘরবাড়ি ভাংচুরের সময় ভূমিহীনদেরকে ওই বসতভিটা থেকে বেআইনীভাবে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীরা আরও উল্লেখ করেন, ওইদিনের ঘটনার পূর্বেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)কে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। ভুক্তভোগীরা বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে পরিবার-পরিজন নিয়ে নীরাপত্তাহীনতায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ ও সুবিচার চেয়ে ভূমিহীন পরিবারকে ওই বসতভিটায় ঘরবাড়ি পূণঃ নির্মানের জন্য, প্রশাসনের প্রতি জোর আবেদন ও দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন ও সহকারী কমিশনার(ভূমি) সুলতানা রাজিয়া জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বনভূমি ধ্বংস করে ১৫৫ একর জমি ইজারা- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলমের বিরুদ্ধে দুদক’র অনুসন্ধান শুরু

    বনভূমি ধ্বংস করে ১৫৫ একর জমি ইজারা

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলমের বিরুদ্ধে দুদক’র অনুসন্ধান শুরু

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কক্সবাজারে ১৫৫ দশমিক ৭০ একর বনভূমি বরাদ্দ নিয়ে শহীদ এ টি এম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিন একাডেমি নির্মাণ করার বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ বনভূমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দিয়েছিল স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার। অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলমের বিষয়ে তথ্য চেয়ে ইতোমধ্যে সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলম বনভূমি দখল করেছেন বলে দুদকের পক্ষ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। এ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং মৌজায় ১৫৫ দশমিক ৭০ একর জমি শহীদ এ টি এম জাফর আলম ক্যাডেট কলেজের নামে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। এ জমি ৭৭ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৭১৫ টাকা মূল্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। পরে শহীদ এ টি এম জাফর আলম ক্যাডেট কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ এ টি এম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিন একাডেমি নাম দেওয়া হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দপত্রে দেশের অন্যতম জীববৈচিত্রসমৃদ্ধ বনভূমিকে অকৃষি খাসজমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে বন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বন বিভাগ। এছাড়া খুনিয়াপালং মৌজায় বন্দোবস্ত দেওয়া ১৫৫ দশমিক ৭০ একর জমি গেজেটভুক্ত রক্ষিত বনভূমি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শহীদ এ টি এম জাফর আলম মাল্টিডিসিপ্লিন একাডেমির নামে ১৫৫ দশমিক ৭০ একর বনভূমি নিয়মবহির্ভূতভাবে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত দিয়েছিল আওয়ামীলীগ সরকার। পরে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বন্দোবস্ত বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে গত ২১ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ভূমি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, বনভূমি রক্ষার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এ বন্দোবস্ত বাতিল করা প্রয়োজন। পরে গত ১০ ডিসেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় শহীদ এ টি এম জাফর আলম ক্যাডেট কলেজের অনুকূলে দেওয়া ১৫৫ দশমিক ৭০ একর ভূমির বন্দোবস্ত বাতিল করে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মাসুদ কামাল স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্দোবস্তকৃত জমিটি গেজেটভুক্ত বনভূমি হওয়ায় এ বন্দোবস্ত বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৫৫ দশমিক ৭০ একর জমি ইজারা নিয়ে ওই জায়গাতে থাকা লাখ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব শফিউল আলমের পরিবারের সদস্যরা রাতারাতি কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। এতে জীববৈচিত্রের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

  • অপকর্ম চলছেই ॥ ধরা ছোঁয়ার বাইরে নেতারা- স্বৈরাচার পতনের পরও গোদাগাড়ীতে আ’লীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতার দৌরাত্ম

    অপকর্ম চলছেই ॥ ধরা ছোঁয়ার বাইরে নেতারা

    স্বৈরাচার পতনের পরও গোদাগাড়ীতে আ’লীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতার দৌরাত্ম

    ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় ১৪ মাস অতিক্রান্ত হলেও রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় পতিত আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতা, শত শত অপকর্ম করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এতে ক্ষুদ্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্বৈরাচার বিরোধী দলের কর্মীরা। জানা গেছে, রাজশাহী-১ সংসদীয় আসনের সাবেক এমপি সন্ত্রাসী ওমর ফারুক চৌধুরীর নেতৃত্বে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও জাতীয় করণের নামে গরীব, অসহায় শিক্ষকদের কাছ থেকে যাদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তুলেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মাহফুজুল আলম (তোতা)। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘পিরিজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের’ প্রধান শিক্ষক। এই ব্যক্তি নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা উঠাতেন। যার একটি বড় অংশ চলে যেত এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নিকটে। অবশিষ্ট নিজে রাখতেন সেখান থেকে দলীয় নেতা, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপঢৌকন পাঠিয়ে নিজের আনুকুল্যে ম্যানেজ করে রাখতেন। বিভিন্ন ভূয়া ভাউচার বানিয়ে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে নিজ নামে কিনেছেন তিন কাঠা জমি। সম্প্রতি তিনি দামী গাড়ী (কার) কিনেছেন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দু’জন সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, পার্শ্ববর্তী তিনটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ অন্য স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের সহায়তা করে, তাদের নিকট থেকে বড় অংকের টাকা উঠানো ও প্রত্যেকের কাছ থেকে নিজের কমিশন নিশ্চিত করেছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও পছন্দসই কয়েকজন শিক্ষক নিয়ে তৈরি করেছেন বিকল্প সমিতি যার নাম “বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি।” এই সমিতির মাধ্যমে শিক্ষকদের কল্যাণের নামে নিজের ও অনুগতদের আখের গুছিয়েছেন। বিধি বর্হিভূতভাবে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন এবং তার অনুসারীরা পাচ্ছেন সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি তৈরি করেন পছন্দসই লোকদের নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই স্কুলের কতিপয় শিক্ষক বলেন, স্কুল ফাঁকি দিয়ে দলীয় কাজসহ এমপির সাথে সারাদিন থাকতেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী হয়েও অতীতের মতোই তিনি বর্তমানেও প্রায় দেরী করে কর্মস্থলে আসেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পূর্বেই অফিস থেকে রাজশাহী নিজ বাসায় চলে যান। শিক্ষকরা বলেন, ০৫ আগস্ট এর পরে প্রধান শিক্ষক ছুটি ব্যতীত সপ্তাহেরও অধিক কর্ম দিবস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি এখনো উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদে বহাল থেকে, গোপনে দলীয় লোকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আনুকূল্য পেতে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে নিজ বিদ্যালয়ের পুকুর ও জমি লিজ ব্যতিরেকে (কোন টাকা ছাড়াই) প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য, পূর্বে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের ফ্রি ভোগ দখল দেয়া হয়েছিল। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য বিদ্যালয়ের এমন অনেক সম্পদ নিজের স্বেচ্ছাচারিতায় তছনছ করেছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের (নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক) কয়েকজন শিক্ষক তার এ সকল অপকর্মের তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন। টাকা দিতে বাধ্য হওয়া শিক্ষকদের কয়েকজন জানান, তাঁরা ধার করে, জমি বিক্রি করে ঐ প্রধান শিক্ষক তোতার কাছে টাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার উচ্চ হারে সুদে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিষ্ঠান জাতীয় করণের নামে টাকা না দিলে বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ লাগানোর ভয় দেখানো হতো। ভুক্তভোগী সকল শিক্ষকেরা তাঁদের টাকা ফেরত পেতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সাথে এমন প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেছেন ভুক্তভুগি শিক্ষকরা।