চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংযোগ সড়ক নির্মানে কলেজের ‘বাধা’ ॥ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্বরোড মোড় থেকে বেলেপুকুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত সংযোগ সড়ক নির্মাণে শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজ কর্তৃক ‘অযৌক্তিক’ বাধার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এলাকাবাসী। সোমবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বেলেপুকুর, শিয়ালা ও আশেপাশের কয়েকটি এলাকার শতাধিক মানুষ। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোঃ শামসুল আলম গানু, সাংবাদিক মোঃ মিজানুর রহমান কুটু, ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রবিউল ইসলাম রবি, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ হুমায়ুন, কারকা কম্পিউটারের স্বত্ত্বাধিকারী প্রভাষক আব্দুর রউফ, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা শাখার সদস্য সচিব মোঃ রুমন আলী, পৌর শাখার ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শাহিন আলীসহ অন্যরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত সড়কটি কেবল একটি রাস্তাই নয়,

এটি এলাকাবাসীর বহু বছরের চলাচলের একমাত্র করিডোর। শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজ সরকার থেকে লিজ পাওয়া জমিতে প্রতিষ্ঠিত হলেও, সেই লিজের মেয়াদ ২০১০ সালেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে আর লিজ নবায়ন হয়নি, এমন দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। বক্তারা অভিযোগ করেন, এলাকাবাসীর চাপে কলেজ কর্তৃপক্ষ সীমানা দেয়ালে একটি গেট রাখলেও, সেটি সারাক্ষণ তালাবদ্ধ থাকে। এতে মহল্লাবাসী দীর্ঘদিন ধরে কার্যত একটি ‘ছিটমহলের’ মতো অবস্থায় বাস করছে। সরু গলিপথে রিকশাও চলাচল করতে পারে না। বিকল্প হিসেবে সরকার বেলেপুকুর থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত ৩০ ফুট প্রস্থের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়, যা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও পেয়েছে। অধিকাংশ জমির মালিক ইতোমধ্যেই জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন এবং অধিগ্রহণের অর্থ জনগণই বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এমন সময়ে, যখন সড়ক নির্মাণ কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখনই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের সীমানার আশেপাশে রাস্তা নির্মাণে আপত্তি জানিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমনকি কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয়। সাবেক জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোঃ শামসুল আলম গানু বলেন,

কলেজের নাম করে একটি গোটা মহল্লার জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে। আমরা শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, তবে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান মেনে নেওয়া হবে না।” স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনোদিনই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেনি বরং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাকে দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ রেখেছে। এলাকাবাসীর মতে, সরকারি জমিতে লিজে থাকা কলেজ কোনোভাবেই নাগরিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। তাই প্রশাসনের কাছে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্নের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর এমন জোরালো অবস্থানের পর বিষয়টি নতুন করে প্রশাসনিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে অনড় থাকলে, এ নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন বক্তারা।