Blog

  • পত্নীতলায় পাষন্ড স্বামীর পিটুনিতে স্ত্রী নিহত

    পত্নীতলায় পাষন্ড স্বামীর পিটুনিতে স্ত্রী নিহত

    পত্নীতলায় পাষন্ড স্বামীর পিটুনিতে স্ত্রী নিহত

    নওগাঁর পত্নীতলায় পারিবারিক কলহের জেরে নেশাখোর স্বামীর লাঠির আঘাতে প্রতিমা রানী (২৬) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে এ ঘটনায় ওই স্বামী প্রদীপ কুমারকে আটক করেছে পুলিশ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নজিপুর ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের চৌধুরীপাড়ার প্রদীপ কুমারের সঙ্গে তার স্ত্রী প্রতিমা রানীর অনেক দিন ধরেই সাংসারিক বনিবনা না হওয়ায় পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হত। শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি ঝগড়া বিবাদ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। ঝগড়ার এক পর্যায়ে মারপিট করেন। পাষন্ড স্বামীর লাঠির আঘাতে তার মৃত্যু হতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারনা। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল কুমার বলেন, সকালে খবর পেয়ে সেখানে গেলে প্রতিবেশীরা বলেন, রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া মারপিট হয়েছিল। এর আগেও অনেকবার তাদের পারিবারিক কলহ আমরা মিমাংশা করে দিয়েছি। স্বামী প্রদীপ নেশাখোর, মাদাকাশক্ত, নেশা করে মাঝে মাঝেই বউ কে মারধর করতো। পত্নীতলা থানার তদন্ত (ওসি) আবু তালেব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। স্বামী প্রদীপ কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

  • গাইবান্ধায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধায় ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় উপবৃত্তির দেওয়ার কথা বলে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে যাওয়া মো. রঞ্জু মিয়া উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলার পন্ডিতপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। শুক্রবার ওই ছাত্রীর পরিবার থানায় অভিযোগ করলে রাতেই উপজেলার পান্থাপাড়ার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, গত চার মাস আগে ওই ছাত্রীর মাদ্রাসায় আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হন। ভর্তির পর অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া কৌশলে ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে লেখাপড়ার খোঁজ-খবর নেওয়ার অজুহাতে তার সঙ্গে প্রায় মোবাইল ফোনে কথা বলতেন অধ্যক্ষ। এক পর্যায়ে মেয়েটিতে উপবৃত্তি পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি। ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, “গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে উপবৃত্তির ফরমে স্বাক্ষর করার জন্য ওই ছাত্রীকে মোবাইল ফোন করে বাসায় ডেকে নেন অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া। সেখানে কেউ না থাকার সুযোগে তাকে ধর্ষণ করেন তিনি। সেই সময় কৌশলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন রঞ্জু।” মোজাম্মেল হক বলেন, আসামি রঞ্জুকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

  • নাটোরের বেটি হিসেবে পরিচিত হতে চাই ॥ নাটোরে এমপি পুতুল

    নাটোরের বেটি হিসেবে পরিচিত হতে চাই ॥ নাটোরে এমপি পুতুল

    নাটোরের বেটি হিসেবে পরিচিত হতে চাই ॥ নাটোরে এমপি পুতুল

    নাটোরের বেটি (মেয়ে) হিসেবে পরিচিত হতে চাই বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ফারজানা শারমিন পুতুল। ফ্যামিলী কার্ড সবার জন্য হবে। হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নবৃত্ত, মধ্যবৃত্ত ও উচ্চবৃত্ত প্রতিটি পরিবারের নারীরা পাবেন ফ্যামীলী কার্ড। তবে, কম সময়ের জন্য এখন শুধু হতদরিদ্র, দরিদ, নিম্নবৃত্ত পরিবারের নারীদের দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, ফারজানা শারমিন পুতুল। শনিবার বেলা ১২টার দিকে নাটোর সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ফারজানা শারমিন বলেন, সারাদেশে ১৪ টি ইউনিটে পাইলট ব্যাসিসে কাজ শুরু হয়েছে, ১০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলী কার্ডের উদ্বোধন করবেন। যে লেনদেন হবে তা সরাসরি জনগণের সাথে রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ হবেনা। নাটোরের উন্নয়নের কথা বলে তিনি আরও বলেন, আমি শুধু লালপুর-বাগাতিপাড়ার না, পুরো নাটোরের বেটি (মেয়ে) হিসেবে পরিচিত হতে চাই। নিরাপদ, চাঁদাবাজ, দখলমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ নাটোর গড়তে চাই। অনুষ্ঠানে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাবসহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।

  • পোরশায় মোস্তাফিজুর রহমান এমপির নির্বাচন পরবর্তী গণসংযোগ

    পোরশায় মোস্তাফিজুর রহমান এমপির নির্বাচন পরবর্তী গণসংযোগ

    পোরশায় মোস্তাফিজুর রহমান এমপির নির্বাচন পরবর্তী গণসংযোগ

    নওগাঁর পোরশা ছাওড় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মশিদপুর হাটে নির্বানোত্তর গণসংযোগ করেছেন নওগাঁ-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। শনিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি ওই গণসংযোগ করেন। গণসংযোগকালে সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জনগণকে নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করবে। জনগণের জন্যই বিএনপি। এই আসনের তিন উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাবেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি তৌফিকুর রহমান চৌধুরী পাঁচশতাধীক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সংসদ সদস্যকে বেজোড়া মোড়ে স্বাগত জানান।

  • গোমস্তাপুরে মেসার্স ফিন্টু অটোরাইস মিলে ইফতার মাহফিল

    গোমস্তাপুরে মেসার্স ফিন্টু অটোরাইস মিলে ইফতার মাহফিল

    গোমস্তাপুরে মেসার্স ফিন্টু অটোরাইস মিলে ইফতার মাহফিল

    মেসার্স ফিন্টু অটোরাইস মিলে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নে এনায়েতপুরে মিলে ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন অত্র মিলের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন ফিন্টু। উপস্থিত ছিলেন, রহনপুর পৌর বিএনপির আহবায়ক এনায়েত করিম তৌকি, বিশিষ্ট ঠিকাদার আব্দুল মান্নান, মেসার্স রফিক অটো রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রফিকসহ গন্যমান্য বাক্তিবর্গ।

  • সিংড়ায় ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকশানে হাঁস খামারীরা

    সিংড়ায় ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকশানে হাঁস খামারীরা

    সিংড়ায় ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকশানে হাঁস খামারীরা

    রমজান উপলক্ষ্যে হঠাৎ ডিমের দাম কমে যাওয়ায় লোকশানে পড়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শতাধিক হাঁস খামারী। আগে ডিমের দাম পাইকারি প্রতি পিস ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হলেও সেই ডিমের দাম কমে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১১ টাকায়। উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের কুমগ্রামের হাঁস খামারী মোঃ আয়ুব আলী জানান, চলনবিলের সিংড়া বারুহাস ডুবো ব্রীজে আমার খামার আছে। খামারের ১২শ হাঁসের মধ্যে ৭শ হাঁস ডিম দেয়। মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। দাম কমে যাওয়ায় ৭শ ডিম বিক্রি করে আমি যে টাকা পাচ্ছি, সেই টাকায় খামারের ১২’শ হাঁসের খাবার কিনতে পারছি না। উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের খামারী বাচ্চু মিয়া জানান, ২৭ বছর ধরে খামার করে এবছরই প্রথম এত লোকশানে পড়েছি। ফিট সহ সব খাবারের দাম বেশি। অথচ ডিমের ন্যায্য দাম পাচ্ছিনা। খামার ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ইটালী ইউনিয়নের ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারী আলা উদ্দিন জানান, আমার খামারে ৭’শ হাঁস আছে। খাবার জোগান দিতে পারছিনা। দুরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোন রকম খাবার খাওয়াচ্ছি। ৭’শ হাঁসের মধ্যে আগে ডিম দিতো ৪’শ হাঁস। এখন ডিম দিচ্ছে ৩শ হাঁস। সরেজমিনে, চলনবিলের সবচেয়ে বড় হাঁসের ডিমের বাজার সিংড়া হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাঁসের বাচ্ছা ফোটানোর জন্য হ্যাচারির বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে। ১০ থেকে ১১ টাকা পিস আর ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিস। বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকারি এনতাজ মন্ডল জানান, পোল্ট্রি ডিমের আমদানি এখন বেশি। দামও কম, সে কারণেই হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আমরা আগের মত ডিম কিনে বাজারে বিক্রি করতে পারছিনা। চলনবিল ডিম আড়তদার মোঃ আলহাজ উদ্দিন জানান, রমজান উপলক্ষে প্রতি বছর পোল্ট্রি মুরগির আমাদানি সাধারণ ভাবেই বেশি হয়। এ কারনে সব ডিমের বাজার কিছুটা কমে যায়। তবে আমরা আশা করছি অল্প দিনের মধ্যে এ বাজার থাকবে না। আগের দামে ফিরে আসবে।

  • মামলা রেকর্ড খরচ-২০ হাজার টাকা ॥ হোতা এ.এস.আই নজরুল- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণা মামলা ১০ লক্ষ টাকায় মিমাংসা ॥ ৫ লক্ষই পুলিশের পকেটে (প্রথম পর্ব)

    মামলা রেকর্ড খরচ-২০ হাজার টাকা ॥ হোতা এ.এস.আই নজরুল- চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণা মামলা ১০ লক্ষ টাকায় মিমাংসা ॥ ৫ লক্ষই পুলিশের পকেটে (প্রথম পর্ব)

    মামলা রেকর্ড খরচ-২০ হাজার টাকা ॥ হোতা এ.এস.আই নজরুল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতারণা মামলা ১০ লক্ষ টাকায় মিমাংসা ॥ ৫ লক্ষই পুলিশের পকেটে (প্রথম পর্ব)

    একটি প্রতারণা মামলার মিমাংসার অর্ধেক টাকা (৫ (পাঁচ) লক্ষ) হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এ.এস.আই নজরুলের বিরুদ্ধে। এর সাথে জড়িত রয়েছেন ওই মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই নূর ইসলামও। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে মামলার মিমাংসা হয় একটি প্রতারণা মামলার এবং টাকা লেনদেন হয় সদর মডেল থানায়। মিমাংসার ১০ লক্ষ টাকা ফায়সালা হলেও ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে নেন সদর মডেল থানার এ.এস.আই নজরুল। অর্ধেক ৫ লক্ষ টাকা দেন প্রতারণার শিকার ভূক্তভোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের মৃধাপাড়ার মোঃ আব্দুল জলিল কে। শুধু তাই নয়, মামলা রেকর্ড করার নামে ২ দফায় ২০ হাজার টাকা ঘুষও নেন সদর মডেল থানার এ.এস.আই নজরুল। অবশ্য মিমাংসার টাকা থেকে ২ দফায় নেয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত দেন এ.এস.আই নজরুল ভূক্তভোগী মোঃ আব্দুল জলিলকে। এনিয়ে ভূক্তভোগীর মনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ হলেও বিষয়টির নেতৃত্ব দেন এ.এস.আই নজরুল। পরবর্তীতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় সদর থানার এস.আই নূর ইসলামকে। কিন্তু তারপরও মামলার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন নজরুল ইসলাম। এছাড়াও মিমাংসার ৫ লক্ষ টাকা সকলে মিলে ভাগবাটোয়ার করার কথাও মামলার বাদী মোঃ আব্দুল জলিলকে বলেন এ.এস.আই নজরুল। মোটা অংকের টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও একান্ত নিরুপায় হয়ে মিমাংসার অর্ধেক ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি আসতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদককে জানান মামলার বাদী ভূক্তভোগী মোঃ আব্দুল জলিল। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার এবং এড়িয়ে কথা বলেন এসব কাজের হোতা এ.এস.আই নজরুল এবং জড়িত এস.আই নূর ইসলাম।

    জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিমোড় (মৃধাপাড়া) মৃত আফসার আলীর ছেলে মোঃ আব্দুল জলিল (৩২) এর সাথে ‘কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা’ নামক ফেসবুক পেজে’র মাধ্যমে পরিচয় হয় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউপির আদিয়ারপাড়ার রফিকুল ইসলামে ছেলে মোঃ রাজু (৪০) ও মোঃ নাজু (৩৩) এর সাথে। একপর্যায়ে বিদেশ কানাডা পাঠানোর বিষয়ে আলাপ হয় তাদের মধ্যে। আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কানাডা পাঠানোর জন্য মোট ১৮ লক্ষ টাকা চুক্তি হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েক দফায় ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে বিদেশ পাঠানো এই ২ দালাল রাজু ও নাজু কে। কানাডা পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রও জমা দেন আব্দুল জলিল তাদের কাছে। কিন্তু কিছুদিন ভালোভাবে কথা বললেও মোঃ রাজু ও মোঃ নাজু’র দিন দিন কথার সাথে কাজের মিল পাচ্ছিল না বিদেশ যাওয়ার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা জমা দেয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল জলিল। একপর্যায়ে আব্দুল জলিল বুঝতে পারে প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। অনেক চেষ্টা করেও টাকা ফেরত বা বিষয়টির কোন সুরাহা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মোঃ রাজু ও মোঃ নাজু’র বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করতে যান জলিল। মামলা দায়েরের জন্য এ.এস.আই নজরুল প্রথমে ১০ হাজার টাকা নেয়। মামলা করা নিয়ে বেশকিছুদিন ঘোরায় আব্দুল জলিলকে থানায়। মামলা এন্ট্রির জন্য আবারও ১০ হাজার টাকার চাপ দেয় এ.এস.আই নজরুল আব্দুল জলিলকে। বিদেশ যাওয়ার জন্য ঋণের জালে ফেঁসে যাওয়া জলিল বাধ্য হয়ে আবারও ১০ হাজার টাকা দেয় এ.এস.আই নজরুলকে। শেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারী মাসে একটি প্রতারণা মামলা রেকর্ড হয় ভূক্তভোগী আব্দুল জলিলের (মামলা নম্বর-০৭, তারিখ-০৪-০১-২০২৬ইং)। প্রথমে মামলার তদন্তভার দেয়া হয় এস.আই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ কে। তারপর মামলার আসামী ধরার জন্য এবং টাকা ফেরতের ব্যবস্থার জন্য থানায় ঘুরতে থাকেন ক্ষতিগ্রস্থ ও ভূক্তভোগী আব্দুল জলিল। সদর থানা থেকে বদলি হওয়ায় মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সদর থানার এস.আই নূর ইসলাম কে বলে জানিয়েছেন প্রথমে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ। অবশেষে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী/২৬) এ.এস.আই নজরুলের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি দল প্রতারক মোঃ রাজু ও মোঃ নাজু’কে গ্রেফতারের জন্য যায় কিশোরগঞ্জ এবং মোঃ রাজু ও মোঃ নাজু’কে গ্রেফতার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসে। তারপরই বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার জন্য উঠেপড়ে লাগে প্রতারক মোঃ রাজু ও মোঃ নাজু’র পক্ষের লোকজন। প্রথম পর্যায়ে সদর মডেল থানায় বিষয়টি সমাধানের জন্য বসে উভয় পক্ষের লোকজন। সেখানে এ.এস.আই নজরুল ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূর ইসলাম মামলার সমঝোতার নেতৃত্ব দেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টার দিকে মামলার সবশেষ মিমাংসাও হয় এবং সমঝোতা এফিডেভিট স্বাক্ষরিত হয়। বাদীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা দেয়ার শর্তে মামলাটির সমাধান হয়। কিন্তু সমাধানের ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ভূক্তভোগীকে দিয়ে বাকি ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় এ.এস.আই নজরুল। নিরুপায় এবং বাধ্য হয়ে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি চলে আসেন ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে বেড়ানো আব্দুল জলিল। পুলিশের সহায়তায় টাকা ফেরত পেয়েও অর্ধেক টাকা হাতে পেয়ে এখনও অনেক টাকা ঋণের বোঝা কাঁধে আব্দুল জলিলের। সমাধানের পুরো টাকাটা হাতে পেলে হয়তো আব্দুল জলিলে ঋনের বোঝা অনেকটায় পরিশোধ হতো। কিন্তু পুলিশের এমন কাজে আফশোষ করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই মোটা অংকের টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া আব্দুল জলিলের।
    সমঝোতার সময় থাকা একজন জানান, প্রতারণা মামলার বিষয়টি উভয় পক্ষ বসে সমাধানের কথা হয় সদর মডেল থানায়। সমঝোতা মোতাবেক পুলিশের কাছে ২ দফায় ১০ লক্ষ টাকা জমা দেয় প্রতারণাকারী রাজু ও নাজুর পক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে সমঝোতা কাগজপত্র স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু সমাধানের কথামতো পাওয়া ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা ভূক্তভোগীকে দেয়া হয়, আর ৫ লক্ষ টাকা রেখে দেয় পুলিশের এ.এস.আই নজরুল ও নূর ইসলাম। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে বলতে চাইলে তারা কোন পাত্তা দেয়নি। তিনি বলেন, পুলিশ সহায়তা করে ভূক্তভোগীর টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে, সেটা অবশ্যই ভালো কাজ। কিন্তু উদ্ধার হওয়া টাকার অর্ধেক টাকা নিয়ে নিবে একা মোটেও ঠিক করেনি। মামলার বাদী আব্দুল জলিল মামলা খরচ বাবদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন, তারপর কিশোরগঞ্জ যাওয়া-আসাসহ প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তারপরও পুলিশের কর্মকর্তা এমন কাজ করলেন। ভূক্তভোগীর কষ্ট থেকেই গেলো, মধ্যখান থেকে লাভ হলো পুলিশের।
    একটি সুত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এ.এস.আই নজরুল, এ.এস.আই আমিনুল, এস.আই নূর ইসলাম। এই তিনজন মিলে সদর থানায় একটি গ্রুপ হয়ে কাজ করে থাকেন। সব কাজের হোতা হচ্ছেন এ.এস.আই নজরুল। যেসব এমন মামলা হাতে আসে সদর মডেল থানায়, এসব মামলার সব তদারকি করেন এ.এস.আই নজরুল। অর্থ হাতিয়ে নেয়াসহ সকল নাটের গুরু হচ্ছেন এ.এস.আই নজরুল। তার সহযোগি সদর মডেল থানার এ.এস.আই আমিনুল ও এস.আই নূর ইসলাম। এ.এস.আই নজরুল থানাকে নিজের কবজায় নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রামরাজত্ব। আর এ.এস.আই নজরুলের এসব কাজের সাপোট করে ভাগ বুঝে নিচ্ছেন থানার ওসি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
    অন্যদিকে, টাকা ছাড়া মিলছে না কোন সেবাই সদর মডেল থানায়। টাকা দিলেই বৈধ-অবৈধ সবই মামলা রেকর্ড হয় সদর মডেল থানায়। ভূক্তভোগী কোন মামলা করলে, সেই মামলার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে পাল্টা মামলা নেয়ার জন্য খুবই উদগ্রীব হয়ে কাজ করেন সদর মডেল থানার ওসি নূর আলম এবং ভোগ করেন সুবিধাও। সরাসরি কোন অপরাধের সাথে না থাকলেও পরোক্ষভাবে ওসির ইশারায় থানায় এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতি চলছে বলেও জানায় ওই সুত্রটি।
    কিশোরগঞ্জের প্রতারনাকারীর বিরুদ্ধে হওয়া ওই প্রতারণা মামলায় মিমাংসার ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে অর্ধেক ৫ লক্ষ টাকা নেয়ার বিষয়ে এ.এস.আই নজরুলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করায় প্রতারককে আটক করে নিয়ে আসি বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী/২৬)। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) উভয়পক্ষের আলোচনায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে ১০ লক্ষ টাকায়। মিমাংসার কারণে আটক ব্যক্তির আদালতে জামিন হয়ে যাওয়ার কথা। মিমাংসার অর্ধেক টাকা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ফোন কেটে দেন। এদিকে, বিষয়টি সাংবাদিক জেনে ফেলায় ভূক্তভভোগী আব্দুল জলিল ও তার লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া অব্যাহত রেখেছেন ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া এ.এস.আই নজরুল।
    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে কথা বললে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই নূর ইসলাম বলেন, মামলাটির প্রথমে দায়িত্ব দেয়া হয় এস.আই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ কে। হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ বদলী হওয়ায় আমাকে মামলাটির দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রেক্ষিতে কিশোরগঞ্জ থেকে মামলার আসামী রাজু ও নাজু কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসি এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সমঝোতা বা টাকা লেনদেন বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। আমি আসামী আদালতে সোপর্দ করে দিয়েছি। এর বেশী কিছুই জানা নেই। সমঝোতার ১০ লক্ষ টাকার ৫লক্ষ টাকা পুলিশের কাছে রেখে দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, বাদীর সাথে কথা বলে জানাতে পারবো বলেন জানান এস.আই নূর ইসলাম। কিন্তু, বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও এস.আই নূর ইসলাম মামলার আসামী গ্রেফতার, সমঝোতা, টাকা লেনদেন এবং অর্ধেক টাকা রেখে দেয়ার সব বিষয় তার উপস্থিতিতেই হয়েছে এবং তিনি সব বিষয় অবগত বলে জানিয়েছেন সমঝোতায় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিরা ও বাদী আব্দুল জলিল।
    এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মূখপাত্র) এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশের কোন সদস্য অন্যায় বা অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার নিজ জেলায় ফারজানা শারমিন পুতুল

    প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার নিজ জেলায় ফারজানা শারমিন পুতুল

    প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রথমবার নিজ জেলায় ফারজানা শারমিন পুতুল

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা নাটোরে পৌঁছেছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। প্রিয় নেত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে উচ্ছ্বাসে ভাসছে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় তিনি নাটোর সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছান। সেখানে জেলা পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। জানা গেছে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোববার (১ মার্চ) পর্যন্ত দুই দিনের সরকারি সফরে নাটোরে অবস্থান করবেন প্রতিমন্ত্রী।সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি শনিবার ভোর ৫টায় ঢাকার বনশ্রীর বাসভবন থেকে সড়ক পথে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। নাটোরে পৌঁছে সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। এরপর দুপুর ১টায় তিনি সার্কিট হাউজ থেকে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা লালপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।‎লালপুরে পৌঁছে দুপুর ২টায় গৌরীপুর হাইস্কুল মাঠে প্রতিমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনায় যোগ দেবেন ফারজানা শারমিন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি লালপুরের নিজ বাসভবনে রাত্রিযাপন করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন, রোববার সকাল ১০টায় প্রতিমন্ত্রী গোপালপুর সুগার মিলের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এরপর বেলা ১১টায় তিনি গোপালপুর থেকে বাগাতিপাড়া উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং দুপুর ১টায় সেখানে পৌঁছে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রোববার রাত ৮টায় নাটোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর। রাত ১২টার দিকে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। স্থানীয় উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ফারজানা শারমিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম নাটোর সফর। তাকে বরণ করে নিতে নাটোরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমরা আশা করছি, তার নেতৃত্বে এই জনপদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং এলাকার কল্যাণে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত।

  • গোমস্তাপুরে ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ এর উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার

    গোমস্তাপুরে ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ এর উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার

    দুঃস্থ-অসহায়ের পাশে ছয় বছর

    গোমস্তাপুরে ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ এর উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার

    মানবতার সেবায় নিরলস কাজ করে চলা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ ৬ষ্ঠ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে মতবিনিময়, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রহনপুর আহমদী বেগম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরার সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডক্টর মুঃ মিজানুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও রহনপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান জেম।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমদ, রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, বাংগাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারিকুল ইসলাম সাদ্দাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য তরিকুল ইসলাম বকুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম তুহিন, বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আশরাফুল হক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মেসার্স রফিক অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।বক্তারা সংগঠনের মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত ইবাদত। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।উল্লেখ্য, ‘মানবতার সেবায় রহনপুর’ গত ছয় বছর ধরে রহনপুর রেলস্টেশনে পথশিশু, ভবঘুরে, ভিক্ষুক এবং গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি অসহায় রোগীদের স্বজনদের মাঝে প্রতিদিন বিনামূল্যে খাবার বিতরণ করে আসছে। স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে এলাকায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ডক্টর মিজানুর রহমান এমপি। এদিকে, উপস্থিত সবার মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, মানবিক সেবার এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আগামী দিনগুলোতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

  • নওগাঁয় জোরপূর্বক দখল করে ৩ ফসলী জমিতেপার্ক নির্মানের অভিযোগ

    নওগাঁয় জোরপূর্বক দখল করে ৩ ফসলী জমিতেপার্ক নির্মানের অভিযোগ

    নওগাঁয় জোরপূর্বক দখল করে ৩ ফসলী জমিতেপার্ক নির্মানের অভিযোগ

    নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় কৃষকের ফসলী জমি জোরপূর্বক দখল করে বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব কৃষক পার্কের জন্য জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে চলতি বোরো মওসুমের ধান রোপন বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। এমন প্রায় ২০/২৫ বিঘা জমিতে এ বছর বোরো ধান রোপন সম্ভব হয়নি। এসব জমি এখনও পতিত রয়েছে। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় ছাতড়া-গাবতলী সড়কে আমইল মৌজায় সাথী নামের এক যুবক নিজস্ব বয়লার চাতাল এবং একটি পুকুরকে ঘিরে ‘সাথী পার্ক’ নামের একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। পার্ক সম্প্রসারনের প্রয়োজনে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন কৃষকের ফসলী জমি নানা কৌশলে দখলের প্রচেষ্টা চালায়। কাউকে জমির পরিবর্তে অন্যত্র সমপরিমান জমি প্রদান করে, আবার কারও জমি মালিককে না বলেই দখল করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমইল গ্রামের জনৈক আব্দুর রাজ্জাকের ১২ কাঠা জমি জোরপূর্বক টিনের বেড়ার ভিতর নিয়ে নেয়। ঐ কৃষকের আরও কমপক্ষে ২ বিঘাসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের কমপক্ষে ২০/২৫ বিঘা জমি সিমেন্টের পিলার দিয়ে ঘিরে নেয়া হয়। এতে কৃষকরা আপত্তি করলেও দলীয় প্রভাবে তা অগ্রাহ্য করা হয়। এসব জমিতে সাথী তার নিজস্ব সেচ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করতেন। এখন আর পানি দিচ্ছেনা। এমনকি অন্য কোন সেচ প্রকল্প থেকে যাতে সেচ কাজে পানি নিতে না পারে, সেজন্য তাদেরও পানি দিতে নিষেধ করে দিয়েছে বলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে জমি দিতে বাধ্য করতে উক্ত সাথী তার গভীর নলকূপ প্রকল্প থেকে সেচের জন্য পানি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ২০/২৫ বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েন কৃষকরা।এ ব্যাপারে সাথী বলেছেন কারও জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়নি। জমির বদলে অন্যত্র জমি দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জমির পরিবর্তে সমপরিমান আবার কিছু জমি অন্যত্র দেয়ার সমঝোতার মাধ্যমে জমি নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কারও কোন অভিযোগ মাই।নিয়ামতপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মুরশিদা খাতুন বলেছেন, পার্ক নির্মানের প্রয়োজনীয় সরকারী অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে, তবে অন্য কৃষকের আবাদী জমি দখল করার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এখতিয়ারভুক্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ৩ ফসলী জমি যাতে জোরপূর্বক দখল করে পার্ক নির্মান করা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।