কোটি টাকার মাছ চুরি ও হামলার অভিযোগে কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

কোটি টাকার মাছ চুরি ও হামলার অভিযোগে কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চৌধুরি ইসমাইল সাজ্জাদ জোহাদ ওয়াকাফ এস্টেটের মতোয়ালী কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর পক্ষ থেকে কৃষকলীগ নেতার বিরুদ্ধে কোটি টাকার মাছ চুরি, হামলার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন মোঃ সাইদুল ইসলাম রানা। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় একটি প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলফাজ কুমিরাদহা বিল থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকার মাছ মেরে নিয়ে যান এবং এসময় বাধা দিতে গেলে দুইজনকে পঙ্গু করে দেন। রানা দাবি করেন, শুধুমাত্র ওই একবার নয়, বর্তমানে আলফাজ নিয়মিত লোকজন নিয়ে মাছ শিকার করছেন এবং বিল দখলের জন্য বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উল্টো তাদের (রানাসহ) বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এই ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ১৭ ও ১৮ নম্বর দুটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া মে মাসে আরও একটি মামলা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলফাজ বর্তমানে তিন মামলারই পলাতক আসামি। প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করে রানা বলেন, আলফাজ মিথ্যা দাবি করছে যে আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটিয়ে এসব মামলা করা হয়েছে। “যদি সত্যিই আওয়ামীলীগের প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকত, তবে সে কোনোভাবেই কুমিরাদহা বিলে অবৈধভাবে দখল দিয়ে মাছ চুরি করতে পারত না। তিনি আরও বলেন, “আইন ও প্রশাসন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত, ক্ষমতা নয়—প্রমাণই হওয়া উচিত বিচার।” কাইয়ুম রেজা ও তার পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রানা তার লিখিত বক্তব্যে কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে কাইয়ুম রেজা কোনো রাজনৈতিক সভা বা জনসভায় অংশ নেননি এবং তার খালাতো ভাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন। ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তার মেয়ে জারা জাবিন মাহবুব সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সাইদুল ইসলাম রানা বলেন, “কুমিরাদহা বিলে আমার চাষ করা মাছ ধ্বংস করায় আমি প্রায় ৭ কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।” তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আলফাজ মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের প্রতি আহব্বান জানিয়ে রানা আরো বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, দ্রুত আলফাজকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *