চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের পথ-ঘাটে হাঁসের সারি ॥ যেন গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা রূপ!
বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে হাঁস শুধু অর্থনীতির অংশ নয় বরং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য প্রতীক। ভোরের আলোয় কিংবা দুপুরের রোদে যখন একঝাঁক হাঁস সারিবদ্ধ হয়ে গ্রামের পথ-ঘাটে সারিবদ্ধভাবে চলে, তখন তা শুধু নয়নাভিরাম দৃশ্যই নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। জানা গেছে, বাংলাদেশের জলাশয় ও ধানক্ষেত নির্ভর অঞ্চলে হাঁস পালন বহুদিনের অভ্যাস। ধানক্ষেতের পড়া ধান, কচুরিপানা, শামুক-ঝিনুক এমনকি কীটপতঙ্গও হাঁসের খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ব্যয় কম, আয় বেশি, এই সমীকরণ হাঁস পালনে উৎসাহ জুগিয়েছে গ্রামবাংলার পরিবারগুলোকে।

এদিকে, হাঁসের ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ ও বাজারে চাহিদাসম্পন্ন হাঁসের মাংস ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় খাবার। গ্রামীণ পরিবারে অতিরিক্ত আয়ের উৎস হিসেবে স্থানীয় হাট থেকে শুরু করে শহরের সুপারশপ পর্যন্ত নিয়মিত সরবরাহ করা হয়। হাঁস শুধু খাদ্য বা আয়ের উৎস নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সহচর। পরিবেশবান্ধব পাখি হিসেবে হাঁসের রয়েছে পরিবেশবান্ধব ভূমিকা। তারা ধানক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে, কচুরিপানা নিয়ন্ত্রণ করে জলাশয় পরিষ্কার রাখে এবং শামুক খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই হাঁসকে বলা যায় প্রকৃতির নিঃশব্দ প্রহরী। এছাড়া, বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিতে হাঁসের অবস্থানও অনন্য। শিশুর ছড়া, লোকগীতি ও গল্পে হাঁসের উপস্থিতি আমাদের শৈশব ও ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামের পথে হাঁসের সারিবদ্ধ চলাচল যেন কোনো শিল্পীর আঁকা জীবন্ত ছবি, যা আমাদের স্মৃতিকে বারবার স্পর্শ করে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মোতাবেক দেশে মোট হাঁসের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি। হাওর-বাওর, বিল, নদীঘেরা অঞ্চল হাঁস পালনের উত্তম স্থান। এসব হাঁস বছরে ডিম দেয় কয়েকশো কোটি। এদের জাতের মধ্যে রয়েছে দেশি, খাকি ক্যাম্পবেল, ইন্ডিয়ান রানার। গ্রামের পথ ঘাটে হাঁসের সারি শুধু একখন্ড দৃশ্য নয় বরং একটি গল্প। এ গল্প আমাদের মাটি, মানুষ ও সংস্কৃতির। আধুনিকতার ছোঁয়া যতই আসুক, চিরায়ত বাংলাদেশকে মনে করিয়ে দিতে হাঁসের ঝাঁক গ্রামের পথে চলতে থাকবেই।

Leave a Reply