চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘোরা-ইতিহাসের শেষ প্রান্তে দাঁড়ানো গ্রামীণ বাহন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দ্রুতগতির মোটরযানের আগ্রাসন, পশুপালনের উচ্চ ব্যয় এবং চালকদের পেশা পরিবর্তনের ফলে বিলুপ্তির পথে জেলার ঐতিহ্যবাহী চারচাকার বাহন ঘোড়ার গাড়ি-‘ঘোরা’। একসময় সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর,নাচোল ও ভোলাহাটের গ্রামীণ রাস্তায় প্রতিদিন শত শত ঘোরা চলাচল করত। ধান-গম পরিবহণ, হাটে গবাদিপশু আনা, স্কুল-কলেজে যাতায়াত—সবক্ষেত্রেই ঘোড়ার গাড়ি বা ঘোরা ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান বাহন। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯০-এর দশকেও জেলায় তিন হাজারের বেশি ঘোরা ছিল; বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েক ডজন। পশুপালনের খরচ বৃদ্ধি, রাস্তার পরিবর্তন এবং যাত্রী সংকটের কারণে অনেক চালক ঘোরা ছেড়ে দিয়েছেন। গোমস্তাপুরের প্রবীণ চালক মকবুল হোসেন বলেন, “আগে দিনে ৩০-৪০ জন যাত্রী পেতাম, এখন ৩ জনও মেলে না। খরচ সামলানোই কষ্ট।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেলার ঐতিহাসিক স্থান-তাহখানা, ছয়দলার গুমটি, নবাবের দৌলতখানা বা আমবাগানকে কেন্দ্র করে ‘ঐতিহ্যবাহী ঘোরা রাইড’ চালু করা গেলে এ বাহন আবারও টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি চালকদের জন্য ভর্তুকি ও পশুচিকিৎসা সহায়তা জরুরি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের স্মৃতিতে ঘোরার শব্দ আজও উপস্থিত থাকলেও বাস্তবে তা হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুতই-কালের সাক্ষী হয়ে।

Leave a Reply