“সূর্য নেই, আগুনেই সকাল-শীতে কাঁপছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ”
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভোর মানেই এখন অন্ধকারের মতো সকাল। হালকা কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস মিলেমিশে শীতের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দু’দিন ধরে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি বললেই চলে। ভোর গড়িয়ে সকাল, সকাল গড়িয়ে দুপুর—আলো নেই, উষ্ণতা নেই। কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই জনপদে থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে শিশুরা। স্কুলপথে ছোট ছোট পা কাঁপছে ঠান্ডায়। অনেক শিশু শীতের ভয়ে স্কুলেই যেতে পারছে না। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের গায়ে নেই পর্যাপ্ত গরম কাপড়, ছেঁড়া সোয়েটার আর পাতলা জামায় শীত ঠেকানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তাদের চোখে নেই শীতের আনন্দ, আছে কেবল কষ্টের ছাপ। অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য এই শীত যেন নীরব বিপদের নাম। হাড়ে হাড়ে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট আর দীর্ঘদিনের রোগ নিয়ে তারা লড়ছেন প্রতিটি সকাল। অনেকে বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছেন না, কেউ কেউ কাঁপতে কাঁপতে আগুনের পাশে বসে আছেন। ওষুধের অভাব আর শীতবস্ত্রের সংকটে রোগী ও বৃদ্ধদের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়। খেটে খাওয়া মানুষের জীবন সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালকদের জন্য কাজ মানেই বেঁচে থাকা।

কিন্তু শীতের সকালে রাস্তায় বের হয়েও মিলছে না কাজ, নেই যাত্রী। ফাঁকা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখে একটাই প্রশ্ন, আজ ঘরে চুলা জ্বলবে তো? গ্রামাঞ্চলের ছবিও আলাদা নয়। কুয়াশায় ঢাকা মাঠে কৃষকের চোখে দুশ্চিন্তা। শিশিরে ভেজা ফসল আর ঠান্ডায় কাহিল গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। খড় আর পুরোনো বস্তা দিয়ে ঢেকেও ঠেকানো যাচ্ছে না শীতের তীব্রতা। গতকাল দুপুরে অল্প সময়ের জন্য সূর্য দেখা দিয়েছিল। সেই ক্ষণিকের রোদে মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে এসেছিল, শিশুরা উঠোনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সূর্য মিলিয়ে যেতেই আবার কুয়াশা আর শীত গ্রাস করেছে পুরো জেলা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই শীত শুধু আবহাওয়ার খবর নয়, এটি শিশুদের শৈশব, বৃদ্ধদের স্বস্তি আর খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। কুয়াশায় বন্দি এই জনপদ আজ অপেক্ষায়, রোদের, উষ্ণতার আর জরুরি মানবিক সহায়তার।
Leave a Reply