জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষোভ ॥ মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবী- স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পেলো ফ্যাসিষ্ট’র দোষর মাসুম এর ‘চাঁপাই দৃষ্টি’

জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষোভ ॥ মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবী

স্বাধীনতা দিবসের ক্রোড়পত্র পেলো ফ্যাসিষ্ট’র দোষর মাসুম এর ‘চাঁপাই দৃষ্টি’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস/২৬’র ক্রোড়পত্র দেয়া হয়েছে ফ্যাসিষ্ট এর দোষর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতাকারী এমরান ফারুক মাসুম এর ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ তে। ‘চাঁপাই দৃষ্টি’র প্রকাশক ও সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সকল সুবিধা ভোগ করলেও বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও সুবিধা পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মীরা। জেলার সিনিয়র-জুনিয়র সংবাদিকরা ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’র মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিলের দাবীও জানিয়েছেন। ফ্যাসিষ্ট এর দোষর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতাকারী এমরান ফারুক মাসুম জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগ কমিটির একজন সদস্য। অন্যদিকে, স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন ‘বিটিভি’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে এখন বহাল তবিয়তে থাকায় জেলার মিডিয়াকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিএনপি সরকারের আমলেও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস/২৬’র ক্রোড়পত্র ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’কে দেয়া এবং ‘বিটিভি’র প্রতিনিধি থাকায় জেলার সাংবাদিক মহলে সমালোচনার ঝড় চলছে। জেলার সচেতন মহল ও মিডিয়াকর্মীদের দাবী, ফ্যাসিস্ট এমরান ফারুক মাসুম এর ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস/২৬’র ক্রোড়পত্র পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে অবিলম্বে ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’র মিডিয়া তালিকাভূক্তি বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণের।

এদিকে, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে (“নিজ বাসার ডায়নিং-বারান্দায় অফিস চালানো, নীতিমালা মোতাবেক প্রয়োজনীয় অফিস নেই, নেই প্রয়োজনীয় কম্পিউটার ও জনবলও, অসুস্থতার অভিনয় করে কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে পার পাচ্ছেন, নীতিমালা মোতাবেক প্রয়োজনীয় অফিস, সরঞ্জাম, জনবল না পাওয়ায় তলব করা হলে কর্মকর্তাদের কাছে মায়াকান্না করে কর্তৃপক্ষকে বোঝানো, সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে বিজ্ঞাপনসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করছেন” অভিনয়ে চতুর এই এমরান ফারুক মাসুম ও তার মালিকানাধীন ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’)। এভাবে কর্তৃপক্ষের চোখে ফাঁকি দিয়ে পত্রিকার প্রকাশনা চালিয়ে যাওয়া ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী-জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাধারণ মিডিয়াকর্মী ও ভূক্তভোগীদের।
জানা গেছে, ফ্যাসিষ্ট এর দোষর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতাকারী এমরান ফারুক মাসুম জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগ কমিটির সদস্য। ২০১৩ সালে ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশনার অনুমতি পেয়ে ‘১লা মে/১৩’ প্রকাশনার কাজ শুরু করে। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এমরান ফারুক মাসুম নিজেকে জেলার ক্ষমতাবান মনে করে জেলার বিভিন্ন অফিস-আদালত থেকে সুবিধা ভোগ করেন। হয়রানী ও নির্যাতন করেন মিডিয়াকর্মীদের উপরও। তার কথার বাইরে গেলেই নেমে আসতো সেই মিডিয়াকর্মী বা অফিসারদের উপর অত্যাচার। কোন অফিস তার কথা না শুনলে সেই কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার রোসানলে পড়তো। এনিয়ে অনেকেই দীর্ঘদিন থেকেই তার দ্বারা ভূক্তভোগী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবসহ জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনকারী ব্যক্তি হচ্ছে এমরান ফারুক মাসুম। তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ক্ষমতা খাটিয়ে জেলার প্রায় সকল দপ্তর থেকে সরকারী-বেসরকারী বিজ্ঞাপন হাতিয়ে নিতেন। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দাম্ভিকতার কারণে নিজ দলীয় লোকজনও বিরক্ত ও বিব্রত বোধ করতেন।

দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে পারদর্শী এই এমরান ফারুক মাসুম নানাভাবে জেলার জামায়াত-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ মানুষকে হয়রানী এবং বিপদগ্রস্থ করেছেন। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারতো না। সেই সাংবাদিক মাসুম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের সময় সরাসরি বিরোধীতা করে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায় জেলা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’সহ ২টি পত্রিকা এবং জেলার মিডিয়াকর্মীদের নিয়ে ‘২০২৪ সালের ৪ঠা আগষ্ট’ ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ তে সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত করেন। সেই সংবাদে জেলার পত্রিকা ২টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণআন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার ও প্রকাশনাকারী মিডিয়াকর্মী ও পত্রিকার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হয়, শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় বসেন অন্তবর্তীকালিন সরকার। কিন্তু এই অভিনেতা মাসুম ভোল্ট পাল্টিয়ে জেলার জামায়াত-বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে সৌখ্যতা গড়ে তোলেন। অন্যদিকে, জেলা থেকে প্রকাশিক ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ পত্রিকার ‘ডিএফপি’ (চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে সরকারী বিজ্ঞাপন ছাপানোর অনুমতি) পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে এবং ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর ডিএফপি তালিকাভূক্ত হতে দেয়নি। কখনো বিএনপি, কখনো জাামায়াত সমর্থক বলে প্রশাসনকে নানান মিথ্যা ও বানোয়াট কথা বলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন এই সাংবাদিক এমরান ফারুক মাসুম। বিএনপি রাজনীতির মতাদর্শের হওয়ায় অনেক চড়াই-উৎরায় পার করে প্রায় দীর্ঘ ১২ বছর পর অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের আমলে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও কিছু শুভাকাঙ্খীগণের সহায়তায় ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর মিডিয়া তালিকাভূক্তি সম্পন্ন হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও পত্রিকাটি সরকারী ক্রোড়পত্র না পেলেও, অপরদিকে, আওয়ামীলীগ আমলে সরকারী ক্রোড়পত্রসহ অন্যান্য সুবিধাভোগকারী ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ কে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্র দেয়া হয়েছে, ২৬ মার্চ এর পত্রিকায় ছাপানোও হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তর থেকেও এই ফ্যাসিস্ট এর দোষর এমরান ফারুম মাসুম এর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। জেলায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামীলীগের দোষর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এখনও তাকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে, এমনকি তথ্য মন্ত্রনালয় থেকেও। বিষয়টি ভালোভাবে দেখছেন না জেলার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সিনিয়র-জুনিয়র অধিকাংশ মিডিয়াকর্মীরা। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে তিনি বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দের সাথে সৌখ্যতা বজায় রেখে নিজের সব কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন। ভোগ করছেন বিভিন্ন সুবিধাও। ধরে রেখেছেন সরকারী টেলিভেশন ‘বিটিভি’র প্রতিনিধিও।
বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র সাংবাদিকগণ বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ আমলে সরকারী ক্রোড়পত্রসহ অন্যান্য সুবিধাভোগকারী ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’ কে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্র দেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী দপ্তর থেকেও এই ফ্যাসিস্ট এর দোষর এমরান ফারুম মাসুম এর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এখনও তাকে সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে, তথ্য মন্ত্রনালয় থেকেও এই ফ্যাসিস্ট এমরান ফারুক মাসুমকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। সে আওয়ামীলীগ আমলে দীর্ঘদিন ক্ষমতা খাটিয়ে জেলার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষকে হয়রানী-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্র করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করেছে। এখন আবার ভোল্ট পাল্টিয়ে এবং প্রশাসনের মধ্যে থাকা ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুবিধা নেয়া অব্যাহত রেখেছে। এটা অবশ্যই বন্ধ হওয়া জরুরী। এছাড়া, বিগত দিনে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই সরকারি টেলিভিশন ‘বিটিভি’র প্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও বিগত প্রায় দেড়বছর অন্তর্বর্তীকালিন সরকারের আমলে বিটিভির প্রতিনিধি পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পরও সরকারি টেলিভিশন ‘বিটিভি’র প্রতিনিধি পরিবর্তন হয়নি। আওামীলীগের এমন পদধারী ও দোষর সরকারি টেলিভিশন ‘বিটিভি’র প্রতিনিধি থাকলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচার-প্রকাশনার কাজ ব্যহত হবে। বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।
জেলার মিডিয়াকর্মী ও ভূক্তভোগীদের দাবী, ফ্যাসিষ্ট এর দোষর, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সরাসরি বিরোধিতাকারী এমরান ফারুক মাসুম ও এর মালিকানাধীন ‘দৈনিক চাঁপাই দৃষ্টি’র বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জেলার সাংবাদিক মহল ও ভূক্তভোগীদের মাঝে সস্তি ফিরিয়ে আনবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এমনটায় আশা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *