‘মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি দল’
নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে-মির্জা ফখরুল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে গেলে দেশের সর্বনাশ হয়ে যাবে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আজকে যে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র চলছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেওয়ার, নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার। সেই নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া মানে আমাদের সর্বনাশ হওয়া। এ দেশের সর্বনাশ হওয়া। কারণ এখন একটা নির্বাচিত সরকার খুব দরকার। সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরও বলেন, এই সরকার এখন তাড়াতাড়ি নির্বাচনটা করবে। প্রফেসর ইউনূসকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি। তিনি অতি দ্রুত আর কোন কালবিলম্ব না করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা করবেন। দেশের একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এ দেশের মানুষের কোনো আপস হতে পারে না, পারে না। তিনি বলেন, “আজকে সুপরিকল্পিতভাবে একটি চক্র, একটি মহল-যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল, তাদের পরিবারকে হত্যা করেছিল, তাদের মেয়েদের তুলে দিয়েছিল পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে, তাদের সঙ্গে কি এদেশের মানুষ আপোষ করতে পারে? পারে না। এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের গর্জে উঠতে হবে। আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতিকে বিক্রি করে ওই কাজগুলো করতে চাচ্ছে একটি দল। আমরা সেটা করতে দিতে পারি না। আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সেই চেতনাকে সামনে আনতে হবে। আমরা এদেশের মানুষ লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করে ৭১ সালে দেশকে স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধদের ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৭১টা হয় নাই, আমরা কিছুই করি নাই, দেশটার জন্য আমরা কোন অবদানই রাখি নাই। এখন ২৪টা যারা করছে, তারাই সব করছে। এমনটাই বোঝানো হচ্ছে।’ একাত্তরের দিনগুলো স্মরণ করিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “নয়টা মাস আমরা দীর্ঘকাল যুদ্ধ করেছি, পরিবার-পরিজনের খবর নেওয়া হয়নি, কত মানুষ কোথায় চলে গেছে। সেই ৭১-কে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে কি সেটা ভোলা যাবে? আমি কি আমার জন্মটাকে ভুলতে পারি? এটা মাথার মধ্যে রাখতে হবে।” সভায় বক্তব্য রাখেন , কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহবায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর, ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভায় জেলার বিভিন্ন স্থানের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।












