Blog

  • সচিবালয়ে সঙ্কট নিরসনে ৮ সদস্যের সচিব কমিটি

    সচিবালয়ে সঙ্কট নিরসনে ৮ সদস্যের সচিব কমিটি

    সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে অবশেষে গঠিত হয়েছে ৮ সদস্যের সচিব কমিটি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি বিক্ষোভরতদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো চেয়ারম্যান বাদিউল কবির। তিনি জানান, সচিব কমিটি আমাদের সাথে বসবে বলে জানিয়েছেন। তবে বৈঠক কখন হবে সেটি জানা যায়নি।
    এদিকে, নিরাপত্তাবলয় ভেঙে চতুর্থদিনের মতো সচিবালয়ে বিক্ষোভ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার (২৭ মে) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের পাশে বাদামতলায় জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘অবৈধ কালো আইন, বাতিল কর করতে হবে’, ‘কর্মচারী মানে না, অবৈধ কালে আইন’, ‘মানি না মানবো না, অবৈধ কাল আইন’, ‘এক হও লড়াই কর, ১৮ লাখ কর্মচারী’, ‘সচিবালয়ের কর্মচারী, এক হও এক হও’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’-এ ধরনের বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। এদিকে, সচিবালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সচিবালয়ের গেটগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সচিবালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
    ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অধ্যাদেশকে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান কর্মচারীরা। তা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ারা বলেন, কালাকানুন যুক্ত করে প্রণীত অধ্যাদেশ কেউ মানবে না। ১৯৭৯ সালের সরকারি চাকরির বিশেষ বিধান ইতোমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করেছেন। এই বাতিল বিধান পুনরুজ্জীবিত করার মানে নতুনভাবে বিতর্ক তৈরি করা। বর্তমান সরকার সেই কাজটিই করেছে। এর ফলে কর্মচারীদের অধিকার খর্ব হবে, তারা কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়বে। কাজেই এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় যে কোনো মূল্যে এটা প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে তারা আইন মন্ত্রণালয়ের সব রুমে তালা দেবেন বলে ঘোষণা করেন।

  • গোবিন্দগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু

    গোবিন্দগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু

    গোবিন্দগঞ্জে বাসের ধাক্কায় অটোরিক্সা চালকের মৃত্যু

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাসের চাপায় মিলন মিয়া (৩২) নামে অটোরিক্সার এক চালক নিহত হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, অটো রিক্সার চালক মিলন মিয়া সোমবার বিকেলে অটোরিক্সা নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ শহরের দিকে আসছিল। পথিমধ্যে বিকেল আনুমানিক সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের বোয়ালিয়া মোড়ে পৌঁছুলে সিমান্ত পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-২০৪২) নামে দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহি বাস পিছন থেকে অটোরিক্সাটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে অটোরিক্সাটি উল্টে গিয়ে চালক মিলন মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে। এ সময় রংপুর থেকে ঢাকাগামী পথের সাথী পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-০৪১৩) নামে অপর একটি যাত্রীবাহি বাস মিলনকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় লোকজন আশংকাজনক অবস্থায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাহ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসারত অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ঘাতক বাসের চালকেরা পালিয়ে গেলেও বিক্ষুব্ধ জনতা বাস দু’টিকে আটক করে। নিহত অটোচালক মিলন মিয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইর (ফকিরপাড়া) গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। দূর্ঘটনায় অটো চালক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন জানান, এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

  • নাচোলে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ কর্মশালা

    নাচোলে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ কর্মশালা

    নাচোলে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ’ বিষয়ক কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২৬ই মে) উপজেলার হাজিডাঙ্গা ব্রাক অফিসে ফোরামের সভাপতি সাহাজামাল বাদশার সভাপতিত্বে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন কো-অর্ডিনেটর আশিকুজ্জান আশিক। এছাড়াও প্রোগ্রামার অর্গানাইজার মিজানুর রহমান, ব্রাক মাইগ্রেশন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, সদস্য লিপিয়ারা খাতুন সহ ফোরামের সকল সদস্য বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিদেশ যাবার পূর্বে সঠিকভাবে পাসপোর্ট ভিসা যাচাই-বাছাইয়ে সহযোগিতা করা, আটক ব্যক্তিকে ফেরত আনা, অসুস্থ অভিবাসীদের চিকিৎসা সহায়তা, দেশে লাশ ফেরত আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফেরত ব্যক্তিকে যাচাই বাছাই পূর্বক আর্থিক সহায়তা করাসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রাকের যৌথ অর্থায়নে এবং ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ইম্প্রভড সাসটেইনেবল রি-ইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশী রির্টানি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২) নামের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

  • শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গ্রেফতার

    শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ গ্রেফতার

    ঢাকার অপরাধজগতের ত্রাস, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনসহ তার সহযোগী মোল্লা মাসুদকে কুষ্টিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (২৭ মে) ভোর রাতে কুষ্টিয়া শহরের কালিশংকরপুর সোনার বাংলা সড়ক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। কালিশংকরপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গেল দেড় মাস আগে কালিশংকরপুর সোনার বাংলা সড়ক এলাকার মৃত, মীর মহিউদ্দিনের বাড়ির নিচ তলা ভাড়া নেয় দুই যুবক। ওই বাড়িতেই থাকতেন তারা। বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেওয়ার পর থেকে বাড়ির দরজা-জানালা খুলতে দেখেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। হঠাৎ ভোররাতে বাড়িটির তালা ভাঙার শব্দ পেয়ে ছুটে আসেন তারা। এরপর দেখতে পান সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে অভিযান চালাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পর দুজনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে আশপাশের এলাকাবাসীদের। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও শুনেছি। তবে গ্রেফতারের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’ কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফয়সাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, এখানে আমাদের কোনো অভিযান ছিল না। অন্য কোনো বাহিনী করেছে কি না, জানি না। জানার চেষ্টা করছি। শহরের বাসিন্দারা জানান, ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত কালীশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা মসজিদের পাশের একটি তিনতলা বাড়ি ঘিরে রাখে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর কমপক্ষে পাঁচটি গাড়ি অভিযানে অংশ নেয় এবং বাড়ির নিচতলা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযান চালানো বাড়িটি স্থানীয় মীর মহিউদ্দিনের মালিকানাধীন। বাড়ির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মেস হিসেবে থাকেন। মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কয়েক দিন ধরে নিচতলায় এক দাড়িওয়ালা অপরিচিত ব্যক্তিকে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি দিনে একবার শুধু খাওয়ার সময় বাইরে বের হতেন। অভিযানের সময় সেনাসদস্যরা শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট দুটি কক্ষে বসিয়ে রাখেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, সকাল ৮টার দিকে একটি কালো মাইক্রোবাস আসে। তখন সেনাসদস্যরা একজন দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে এবং অন্য এক যুবককে হাত বেঁধে গাড়িতে তোলেন। অভিযান শেষে একজন সেনা কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের বলেন, এখন বললে ভয় পাবে। পরে মিডিয়ার মাধ্যমে সব জানতে পারবে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ভারতে আশ্রয় দেওয়া কয়েকজন বাংলাদেশি সন্ত্রাসীকে ছেড়ে দেয়। তারা এখন দেশে ফিরে এসে জোটবদ্ধ হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় নৈরাজ্য চালাচ্ছে। এদের অনুগত চক্র রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে যুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা হলে এসব অপরাধ কমে আসবে।

  • রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজায় অগ্নিকাণ্ড ॥ আহত-৩

    রাজশাহীর থিম ওমর প্লাজায় অগ্নিকাণ্ড ॥ আহত-৩

    রাজশাহীর নিউমার্কেট এলাকায় বহুতল শপিং সেন্টার থিম ওমর প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা হলেন, ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী মো. রনি (২৫) ও মো. হাসিব (২২) এবং নগরের ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মো. বাপ্পি (৪২)। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সামা এসব তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
    তিনি জানান, থিম ওমর প্লাজার ষষ্ঠ তলার ‘ফুড প্যালেস’ নামের একটি রেস্তোরাঁর কিচেন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখে ক্রেতা-বিক্রেতারা দ্রুত মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসেন। আগুন লাগার পর পুরো মার্কেটে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত তিনজনকে অসুস্থ অবস্থায় মার্কেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবু সামা আরও বলেন, আগুন অন্য ফ্লোরে না ছড়ালেও ধোঁয়ার কারণে নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। রেস্তোরাঁর অব্যবস্থাপনার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

  • মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ

    মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ

    মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ১৯ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ

    মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়েছে ভারতীয় বিএসএফ। মঙ্গলবার ভোর রাতে উপজেলার সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয় বলে মুজিবনগর থানা ওসি মিজানুর রহমান জানান। সীমান্ত পার হয়ে উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজারে এলে মুজিবনগর থানা পুলিশ তাদের আটক করে। পরে সেখানে বিজিবি সদস্যরাও উপস্থিত হয়। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী নয়জন শিশু, পাঁচজন নারী এবং পাঁচজন পুরুষ আছে। তারা হলেন-কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গমারি থানার কাঠগিরি গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে মোমেনা খাতুন, তার তিন ছেলে মোজাম্মেল হক (২৩), মোস্তাক আহমেদ (১৯) ও এক কিশোর (১১), নাগেশ্বরী উপজেলার জয়মঙ্গল ১১ মাথা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মইনুল ইসলাম, তার স্ত্রী কাঞ্চন বেগম এবং তাদের শিশু ও কিশোর তিন ছেলেমেয়ে, লালমনিরহাট জেলার সদর থানার চুঙ্গগাড়া গ্রামের মৃত গনেশ চন্দ্র পালের ছেলে নিতাই চন্দ্র পাল, তার স্ত্রী গীতা রানী পাল এবং তাদের তিন শিশু-কিশোর ছেলেমেয়ে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী থানার কুঠিচন্দ্র খানা গ্রামের খলিলের ছেলে আমিনুল ইসলাম, স্ত্রী পারুল এবং তাদের দুই শিশু-কিশোর ছেলেমেয়ে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। হরিয়ানা রাজ্যে তারা বসবাস করতেন। ছয়-সাত দিন আগে তাদেরকে হরিয়ানা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর কারাগারে নেওয়া হয়। মুজিবনগর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, তারা সীমান্ত পার হয়ে কেদারগঞ্জ বাজারে বিআরটিসি কাউন্টারে অবস্থান করেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

  • অপেশাদার বা ভূঁইফোঁড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবী প্রকৃতদের- চাঁপাইনবাবগঞ্জের কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট পুলিশের হাতে গ্রেফতার

    অপেশাদার বা ভূঁইফোঁড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবী প্রকৃতদের- চাঁপাইনবাবগঞ্জের কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট পুলিশের হাতে গ্রেফতার

    অপেশাদার বা ভূঁইফোঁড় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবী প্রকৃতদের

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট পুলিশের হাতে গ্রেফতার

    কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক, চাঁদাবাজীসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার অন্যায় আবদার ও সাজানো মামলার তদবির না শোনায় সম্প্রতি পুলিশ কে নিয়ে নানান বাজে কথাবার্তা সামাজিক ফেসবুকে পোষ্ট করেন কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট। অন্যদিকে, সাংবাদিকতার ক্ষমতা ও চাপ দিয়ে তার (সোহেল আমান আর্জেন্ট) বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার বা রেকর্ড না করার জন্য পুলিশকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার তার অন্যায় আবদার ও সাজানো মামলার তদবির না শোনায় জেলার পুলিশ সুপার, গোমাস্তাপুর ও নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জদের নিয়ে নানান আজে-বাজে কথা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে লিখে বিতর্কের সৃষ্টি করে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব করতে থাকে ‘ক্রাইম তালাশ প্রতিদিন’ নামের ঢাকা থেকে প্রকাশিত (রেজিষ্ট্রেশন বিহীন) একটি অনলাইন এর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে। অবশেষে রবিবার ২৫ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ ও রাজশাহী পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট কে রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার কাজিহাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। সোমবার সোহেল আমান আর্জেন্ট কে আদালতে তোলা হয় এবং তাকে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত রিমান্ড না মুঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামের মৃত আমানুল্লাহ আমান এর ছেলে সোহেল আমান আর্জেন্ট (৪৫) দীর্ঘদিন থেকেই বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত। কিন্তু সোহেল আমান আর্জেন্ট প্রায় ১ যুগ আগে থেকেই বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িয়ে যায়। তাঁর নেশা করার বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, সোহেল আমান আর্জেন্ট এর সাথে তাদের পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় তার চাচা, চাচাতো ভাইসহ এলাকার বেশকিছু মানুষের সাথে। প্রতিপক্ষ চাচা, চাচাতো ভাইসহ অন্যান্যদের ঘায়েল করতে এবং ফাঁসাতে নানা কৌশল শুরু করে আর্জেন্ট। সাজানো ঘটনায় মামলা দায়েরও করে। পরে সেই মামলায় পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়। এদিকে, ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানের পরই নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানাভাবে বিভিন্ন জনকে ভয়ভীতি ও ক্ষমতা দেখাতে শুরু করে সোহেল আমান আর্জেন্ট। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপি পরিবারের হওয়ায় স্বৈরাচার সরকার পতনের পর নিজেকে বিশাল মাপের নেতা ও সাংবাদিক উপস্থাপন করতে থাকে। বিশাল ক্ষমতার মানুষ হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকার মানুষকে নানাভাবে অতিষ্ট করে তোলে।

    এছাড়া পরবর্তীতে আবারও ষড়যন্ত্র করে প্রতিপক্ষ কে ফাঁসাতে সাজানো ঘটনা নিয়ে মামলা দায়ের করে। পুলিশ তদন্ত করে মামলা নেয়ার জন্য বললে পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয় সোহেল আমান আর্জেন্ট। মামলা না নিলে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করে বেকায়দায় ফেলারও হুমকি দেয় সোহেল আমান আর্জেন্ট। সে নিজেকে একজন সিনিয়র এবং বড় মাপের সাংবাদিক বলেও প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমতার দম্ভে সোহেল আমান আর্জেন্ট পুলিশের বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করতে থাকে। মোবাইলে ফোন করে নানাভাবে নিজেকে বিশাল কিছু ভাবাতে চায় পুলিশ কে সোহেল আমান। কিন্তু পুলিশ তাঁর এসব কথার কোন মূল্যায়ন না করায় এবং তার কথামতো মামলা নেয়া বা না নেয়ার বিষয়টি না শুনলে শুরু হয় তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশ কে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট এবং মনগড়া লেখালেখি। একপর্যায়ে অশালিন ভাষায় লিখতে থাকে পুলিশ সুপার, ওসিসহ বিভিন্ন স্তরের পুলিশের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি লেখালেখির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা থাকলেও সে বিষয়টিও সে তোয়াক্কা করেনি। অবশেষে পুলিশ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
    জেলা পুলিশ সুত্র সোমবার বিকেলে এক প্রেসনোটে জানায়, মোঃ সোহেল আমান আর্জেন্ট (৪৫), পিতা-মৃত আমানুল্লাহ আমান, সাং-নয়াদিয়ারী, থানা-গোমস্তাপুর, জেলা-চাপাইনবাবগঞ্জ এর জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে চাচাতো ভাইসহ গ্রামবাসীর সাথে বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধের নাচোল ও গোমস্তাপুর থানায় ০৮(আট) টি নিয়মিত মামলা এবং ততোধিক জিডি হয় এবং তদন্তাধীন আছে। গত ইং-২৫/০৫/২০২৫ তারিখে নাচোল থানার মামলা নং-১৮ তাং-২৫/০৫/২০২৫ইং, ধারা-১৪৩/৩২৩/৩০৭/৫০৬/১১৪ তৎসহ ৩/৫/৬ The Explosive Substances, ১৯০৮ মামলা রুজু হয়। মোঃ সোহেল আমান আর্জেন্ট উক্ত মামলার এজাহার নামীয় বিবাদী। মামলা রুজু হওয়ার পরে ২৫/০৫/২০২৫ খ্রি. দিবাগত রাতে নাচোল থানা পুলিশ ও ডিবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার কাজিহাটা এলাকা হতে গ্রেফতার করে। তাকে সোমবার ২৬/০৫/২০২৫ খ্রি. বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
    এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, সোহেল আমান (আর্জেন্ট) এর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় রাজশাহী মেট্রো পলিটন পুলিশের সহযোগিতায় নাচোল থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।
    আসামিপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. মোঃ নুরুল ইসলাম সেন্টুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা আসামি সোহেল আমান আর্জেন্ট কে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত রিমান্ড না মুঞ্জুর করেন এবং জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামিন বিষয়ে আগামীতে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
    “এমন সব কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের জন্য জেলায় প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের প্রাইশই বিব্রত ও বিতর্কের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। জেলায় কথিত ও ভূঁইফোঁড় সাংবাদিক সোহেল আমান আর্জেন্ট এর মতো আরও কিছু ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা প্রকৃত সাংবাদিকতা না করে কোন একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে জেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সুবিধা ভোগ করছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের সাংবাদিক সাজিয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে ভুলুন্ঠিত করছেন এবং কলুশিত করছেন। “এমন টায় মনে হচ্ছে, সাংবাদিকতার একটি কার্ড বা পেশা যেন, একটি নিরাপত্তা কার্ড”। এসব অপেশাদার সাংবাদিক বা ভূঁইফোঁড় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকবৃন্দ”।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২৬ মে) রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মতিউর রহমান। বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্টস এ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিএমএ)এর উদ্যোগে এবং বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী “আম রপ্তানির জন্য চুক্তিবদ্ধ চাষের মাধ্যমে GAP I HACCP এর মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মোঃ শুকুরুদ্দীন। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম, ও বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ এম কোরাইশী মিলু। কর্মশালায় আরও ছিলেন এগ্রো প্রোডাক্টস্ বিজনেস্ প্রমোশন কাউন্সিল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা’র উপ-পরিচালক কাজী মোঃ আনিসুর রহমান খান। প্রশিক্ষণ কর্মশালার আলোচক ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ ড. মো: জহুরুল ইসলাম। কর্মশালায় মানব দেহের জন্য নিরাপদ কেমিক্যাল মুক্ত আম উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করণ, আমের রোগ-পোকা দমন ও পরিচর্যার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি এবং আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানীর সুযোগ বৃদ্ধির করণের অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন উপস্থিত ৭০ জন আম চাষী ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সর্বস্তরের আম চাষী ও ব্যবসায়ী বৃন্দ ছাড়াও উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • পাবনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মুছে স্টেডিয়াম-সুইমিংপুলে নতুন ফলক ॥ স্থানীয়দের ক্ষোভ

    পাবনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মুছে স্টেডিয়াম-সুইমিংপুলে নতুন ফলক ॥ স্থানীয়দের ক্ষোভ

    পাবনায় ক্রীড়া স্থাপনা থেকে জেলার দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ৬ মে শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জেলা স্টেডিয়াম, পাবনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল সুইমিংপুলের নাম পরিবর্তন করে পাবনা জেলা সুইমিংপুল রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাতারাতি এসব স্থাপনার নাম পরিবর্তন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, এই পরিবর্তনের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কোনো প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়নি। আমরা কেবল ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আদেশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশনা পালন করেছি মাত্র। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে জানা যায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দেশের বিভিন্ন জেলার স্টেডিয়াম ও সুইমিংপুলের নাম একযোগে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
    এতে পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে জেলা স্টেডিয়াম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল সুইমিং পুলের নাম পরিবর্তন করে পাবনা জেলা সুইমিংপুল করা হয়েছে। গত ২৩ মার্চ নেওয়া মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ওই পত্রে। এদিকে, ক্রীড়া স্থাপনা থেকে জেলার নেতৃস্থানীয় দুই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম বাদ দেওয়ায় প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধে দেশের প্রথম শহীদ এমপি। স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তিন দিন নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ‘মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান ইতিহাস থেকে মোছা অসম্ভব। আর রফিকুল ইসলাম বকুল দুঃসাহসী ছাত্রনেতা, রণাঙ্গনের যোদ্ধা। বারবার নির্বাচিত এমপি। এদের নাম মুছে ফেলে সরকার কী প্রমাণ করতে চাইছে? মুক্তিযোদ্ধাদের নাম মুছে দিলেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হারিয়ে যাবে না। এই অন্যায়ের জবাব একদিন জাতিকে দিতে হবে।’
    পাবনার সাংস্কৃতিক সংগঠক হাসান মাহমুদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের নামে এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্রীনিবাসের নাম পরিবর্তন করা হলো। সে নিয়ে বলা হলো, পাবনায় এ নায়িকার অবদান কি বা এটা-সেটা প্রশ্ন। সুচিত্রা সেনের নাম বাদ দিয়ে ‘জুলাই ৩৬’ ছাত্রীনিবাস ‘কিন্তু শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিনের ক্ষেত্রে কী বলবেন? কেন স্টেডিয়াম থেকে তাঁর নাম মুছে দেওয়া হলো? এভাবে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অসম্মানিত করা আগামীর জন্য কোনো ভালো বার্তা বহন করে না। এটি চরম নিন্দনীয় কাজ।’ সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাসের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার ঝড়সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাসের নাম পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনার ঝড় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা শাওন হোসাইন বলেন, ‘একাত্তর আমাদের শেকড় ও চব্বিশ আমাদের অস্তিত্ব। এর কোনোটাকেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ’২৪ এবং ’৭১-কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। ‘এর অংশ হিসেবে অপ্রয়োজনীয়ভাবে শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে পূর্বের নাম বহালের দাবি জানাই।’
    শহীদ আমিন উদ্দিনের সন্তান সদরুল আরেফিন বলেন, ‘সরকার-রাষ্ট্র পুরোপুরি মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করছে। আমার বাবা না হয় মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠরা তো রাজনীতি করতেন না। তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠদের নামের স্টেডিয়ামেও পরিবর্তন এনেছে? এই সরকারকে আমার কিছুই বলার নেই।’
    শহীদ আমিন উদ্দিনের নাতনি বিএনপির মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘শহীদ আমিন উদ্দিনের মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ অবদানের কথা সবাই জানে। তাঁর নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নিন্দনীয় ও আপত্তিকর। নাম পরিবর্তনের এই রাজনীতি নোংরা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বহন করে। ফ্যাসিবাদের সময়টার বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাস আছে। নাম পরিবর্তন করে তা মুছে ফেলা যাবে না।’
    জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা বলেন, ‘শহীদ আমিন উদ্দিন পাবনার গর্ব। আমাদের প্রেরণা। মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল পাবনায় স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনকারী ও গণমানুষের নেতা। বিএনপির সভাপতি হলেও দলমত-নির্বিশেষে সবার কাছেই তিনি নিজ গুণে প্রিয় মানুষ ছিলেন। বিএনপির এমপি হিসেবে মৃত্যুবরণ করা এই বীর যোদ্ধার রাজনৈতিক শিষ্য হিসেবে আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। আশা করি, শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।’ মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুলের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম বলেন, ‘নাম পরিবর্তন করে ইতিহাস মোছা যায় না। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান কোনো ভালো ফল বয়ে আনবে না।’ উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২০ মে) পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সুচিত্রা সেন ছাত্রীনিবাস নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই ৩৬’ ছাত্রীনিবাস নামকরণ করা হয়। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন অনেকে। জেলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

  • বিএনপি মহাসচিবের নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা ॥ গ্রেপ্তার ২

    বিএনপি মহাসচিবের নামে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণা ॥ গ্রেপ্তার ২

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা করার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হচ্ছে, নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার সহিদুল ইসলাম ও টাঙ্গাইল জেলার দিঘুলিয়া উপজেলার হায়দার রহমান। ঠাকুরগাঁও পুলিশ জানায়, রোববার (২৫ মে) পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত হায়দার রহমানের তিন দিন এবং সহিদুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পুলিশ পৃথক দুটি অভিযানে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে নূর এ শাহাদৎ স্বজন ও তাঁর ভাই ফয়সল আমীনের পক্ষ থেকে সাইফুল ইসলাম সবুজ প্রতারণার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও থানায় দুটি মামলা করেন। দুটি মামলাই দায়ের করা হয় ২৫ মে ও ২১ মে। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৭ মে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাদী জানতে পারেন ‘জয় খান’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর: ০১৭০৪-৫৫৩০৫৫) এবং মো. শাকিল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি মির্জা ফখরুলের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেছেন। ওই আইডি থেকে নিজেদের মির্জা ফখরুল পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদ ও জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে সাইবার স্পেসে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। ঠাকুরগাঁও থানার ওসি সারোয়ার আলম খান বলেন, আটক দুই ব্যক্তি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার ছোট ভাই ঠাকুরগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনের ছবি ও নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক ও যিধঃংধঢ়ঢ় আইডি খুলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।