Blog

  • চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট

    চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট

    চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারে জমে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের হাট। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই হাটে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শৈত্যপ্রবাহ আর শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে অবস্থিত এই হাটে বেড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতা ও শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞ। সপ্তাহে প্রতি শুক্র ও সোমবার সরোজগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই হাট বসে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে কেনাবেচা। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সারি সারি সাজানো মাটির হাঁড়ি বা ভাঁড়। সুমিষ্ট গন্ধে ম ম করছে চারপাশ। গাছিরা তাদের উৎপাদিত ঝোলা গুড় ও নলেন পাটালি নিয়ে হাটে আসছেন, আর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা দরদাম করে তা কিনে ট্রাকে লোড করছেন। এখানকার গুড় স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে মানভেদে ১২ থেকে ১৪ কেজির প্রতি ভাঁড় গুড় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি গুড়ের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, চিনির দাম বেশি থাকায় এবার গুড়ে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা নেই বললেই চলে, ফলে ক্রেতারা আসল গুড় কিনতে পারছেন। পাবনার ব্যবসায়ী আব্দুল বারেক জানান, ‘হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো থাকায় নিশ্চিন্তে কেনাকাটা করা যায়।’ তবে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বদরুউদ্দীন জানান, পুরনো গাছিরা মারা যাচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহী না হওয়ায় ভবিষ্যতে গুড়ের সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এবার জেলায় গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। পুরো মৌসুমে এই হাট থেকে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার গুড় কেনাবেচা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘কৃষকরা পরম যত্নে এখানে চিনিমুক্ত গুড় উৎপাদন করেন। আমরা অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে কঠোর নজর রাখছি। কেউ ভেজাল বা চিনিযুক্ত গুড় বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শীতের এই মৌসুমে সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। চৈত্র মাস পর্যন্ত এই সরগরম অবস্থা বজায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বাগাতিপাড়ায় নিখোঁজ সাগরের সন্ধান মিলেনি ॥ উৎকন্ঠায় পরিবার

    বাগাতিপাড়ায় নিখোঁজ সাগরের সন্ধান মিলেনি ॥ উৎকন্ঠায় পরিবার

    নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাস পেরোলেও সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ সাগরের। এ ঘটনায় নিখোঁজ কিশোর সাগরের পরিবার চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের মিশ্রীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ পপি বেগমের সন্তান সাগর গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে নিখোঁজ হয়। ছেলেটি সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি থেকে দয়ারামপুর বাজারে পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও সন্তানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে পরিবারটি চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বাগাতিপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৮২০। বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নিখোঁজ শিশুটির মা মোছাঃ পপি বেগম জানান, তার সন্তানের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি শিশুটির সন্ধান পেতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। নিখোঁজ শিশুটির বিষয়ে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে ০১৭৯৬৯৮২৫৬১ নম্বরে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ডিএনসির অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    ডিএনসির অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    ডিএনসির অভিযানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা কার্যালয়ের (ডিএনসি)র অভিযানে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানে গাঁজাসহ মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতারের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। আটক ব্যক্তি হচ্ছে, জেলার ভোলাহাট উপজেলার রাধানগর গ্রামের মৃত হাফিজুল ইসলামের ছেলে মোঃ সালাউদ্দিন (৩২)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান এক প্রেসনোটে জানান, ডিএনসি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর গঠিত টাস্কফোর্স ১৪ জানুয়ারি দুপুরে ভোলাহাট থানার রাধানগর কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মাদক ব্যবসায়ী মোঃ সালাউদ্দিন কে ২০ (বিশ) গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ প্রসিকিউশন দাখিল করেন। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তায়েফ উল্লাহ হুজাইফ তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসামিকে ০২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ (পঞ্চাশ) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

  • বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা ॥ সাংবাদিকদের মিলনমেলা

    বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা ॥ সাংবাদিকদের মিলনমেলা

    সাংগঠনিক ঐক্য, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও সাংবাদিক সমাজের পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা, শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও সাংবাদিকদের মিলনমেলা সিলেটে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নেতৃবৃন্দ, সংগঠক, সাংবাদিক ও অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্বে কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, আদর্শ, গঠনতন্ত্র ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ ও পেশাদার নেতৃত্ব গড়ে তোলাই এ কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার। পরিচিতি সভা শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় সংগঠনের ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এতে সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ছাড়াও সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দুপুরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ, যেখানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সমসাময়িক সামাজিক, সাংগঠনিক ও পেশাগত নানা বিষয়ে আলোকপাত করেন। তারা বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও সুসংগঠিত নেতৃত্ব একটি সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
    দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় সাংবাদিকদের মিলনমেলা। এ মিলনমেলায় দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডার মধ্য দিয়ে মিলনমেলাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আয়োজকরা বলেন, এই মিলনমেলা সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। দুই দিনের কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ সিলেটবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের গঠনমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সফল আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচিতি সভা, শোভাযাত্রা, সমাবেশ ও সাংবাদিকদের মিলনমেলা একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন অংশগ্রহণকারীরা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সফিউল্লাহ আনসারী তার বক্তব্যে বিএমএসএফের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফরকে ‘সাংবাদিক বন্ধু’ উপাধতে ভূষিত করেন।

  • সিংড়ায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    সিংড়ায় আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা

    নাটোরের সিংড়ায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রিফাত এর সভাপতিত্বে সভায় সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন, সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুর নূর, উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ রফিক, তাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হানিফ, ইটালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, গণমাধ্যমকর্মী মোল্লা মোঃ এমরান আলী রানা, সাইফুল ইসলাম, সৌরভ সোহরাব, খলিল মাহমুদ প্রমুখ। সভায় চুরি, ডাকাতি সহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

  • পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ১৮৮ বন্দি

    পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের ১৮৮ বন্দি

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে চিকিৎসাধীন ও আটক থাকা ১৮৮ জন বন্দি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারে থাকা আইনগতভাবে ভোটাধিকারপ্রাপ্ত বন্দিদের ভোট প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, যেসব বন্দির ভোটাধিকার আইন অনুযায়ী বহাল রয়েছে, কেবল তারাই নির্ধারিত নিয়ম মেনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কমিশনের বিধি-বিধান অনুসরণ করেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ‘সবার জন্য সমান ভোটাধিকার’—এই সাংবিধানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

  • সাড়ে ৩ লাখ এনআইডি তথ্য বিক্রি ॥ ইসির ২ কর্মচারী আটক

    সাড়ে ৩ লাখ এনআইডি তথ্য বিক্রি ॥ ইসির ২ কর্মচারী আটক

    জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের এক কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস অ্যাসিস্টেন্টসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে-গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আল আমিন (৩৯)। মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে গ্রেফতারকৃতরা। প্রতিটি তথ্য ২০০-৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তাদের গ্রেফতা দেখানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন অফিস এলাকা থেকে মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকা থেকে চক্রের অপর সদস্য মো. হাবীবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়- গ্রেফতার আল আমিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারা দেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি পূর্বপরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করেন। এর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন মো. আলামিন। অপরদিকে, মো. হাবীবুল্লাহ ওই গোপন আইডি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন নাগরিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্য জনপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে- মাত্র এক সপ্তাহে এক লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছে তারা। প্রতিটি তথ্য ৩০০ টাকা হিসেবে হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অর্থ দিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন। এ চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

  • বগুড়ায় ভোটার সচেতনতায় মতবিনিময় সভা

    বগুড়ায় ভোটার সচেতনতায় মতবিনিময় সভা

    বগুড়ায় ভোটার সচেতনতায় লাইট হাউসের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় শহরের জহুরুল নগর লাইট হাউস কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। লাইট হাউসের সভাপতি হাবিবা বেগমের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী প্রধান মো. হারুন অর রশীদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো. রায়হান। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. আছিয়া খাতুন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. শাহজালাল, জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল বাছেদ, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. ফজলুল করিম রাজু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা শাখার সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম পল্টু, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল, জেলা মহিলা দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাদী লায়লা, কাহালু উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি কবিতা আরজু, বগুড়া পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নূরুল ইসলাম, সুজন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন, তহুরুননেছা মহিলা সংসদের সাধারণ সম্পাদিকা মাহমুদা হাকিম, লাইট হাউসের জেন্ডার কমপ্লায়েন্স অ্যাডভাইজার ওয়াহিদা ইয়াসমিন, পিইউপির প্রধান সমন্বয়কারী আবু হাসনাত, পেসডের নির্বাহী পরিচালক রুমানা ইয়াসমিন প্রমুখ। সভায় গণভোট বিষয়ে প্রচারণা বৃদ্ধি ও নারী, যুব এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এনজিওসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আহ্বান জানানো হয়।

  • চাকার শব্দে যে আনন্দ-চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারিয়ে গেছে গরুর গাড়ির বিয়ের শোভাযাত্রা

    চাকার শব্দে যে আনন্দ-চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারিয়ে গেছে গরুর গাড়ির বিয়ের শোভাযাত্রা

    চাকার শব্দে যে আনন্দ-চাঁপাইনবাবগঞ্জে হারিয়ে গেছে গরুর গাড়ির বিয়ের শোভাযাত্রা

    একসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামবাংলায় বিয়ে মানেই ছিল আলাদা এক উৎসব। আধুনিক ডেকোরেশন, মাইক্রোবাস কিংবা বিলাসী গাড়ির বহর নয়—বরং কাঠের তৈরি গরুর গাড়ি, রঙিন কাপড়ে মোড়ানো শিং, কপালে টিপ পরা গরু আর ঢোল-করতালের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া বরযাত্রাই ছিল আনন্দের মূল চিত্র। আজ সেই দৃশ্য কেবল স্মৃতির অ্যালবামেই বন্দী। গরুর গাড়িতে বিয়ে, ছিল গর্বের ঐতিহ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল কিংবা ভোলাহাট অঞ্চলে গরুর গাড়িতে বিয়ে ছিল সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এই প্রথায় অংশ নিত। বর বসতেন গরুর গাড়ির মাঝখানে পিঁড়িতে, মাথায় পাগড়ি, পাশে বন্ধুবান্ধব। সামনে ও পেছনে আরও কয়েকটি গরুর গাড়ি—কেউ নিয়ে যাচ্ছেন উপহার, কেউ গান গাইছেন, কেউ ঢোল বাজাচ্ছেন।
    গ্রামের রাস্তা দিয়ে যখন বরযাত্রী যেত, তখন আশপাশের মানুষ কাজ ফেলে ছুটে আসত দেখার জন্য। শিশুদের চোখে ছিল বিস্ময়, বয়স্কদের চোখে ছিল তৃপ্তি, এ যেন পুরো গ্রামের বিয়ে। উৎসবের সঙ্গে প্রকৃতির মেলবন্ধন গরুর গাড়ির বিয়ে ছিল প্রকৃতিবান্ধব, শব্দদূষণহীন ও মানবিক। কোনো হর্নের কর্কশ আওয়াজ নয়, ছিল কেবল চাকার ঘর্ষণ, গরুর ঘণ্টার টুংটাং শব্দ আর মানুষের হাসি। এই বিয়ে ছিল সম্পর্কের, মানুষে মানুষে, মানুষে প্রকৃতিতে। কেন হারিয়ে গেল এই ঐতিহ্য?
    সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলেছে মানুষের রুচি ও জীবনযাপন। পাকা রাস্তা, দ্রুত যানবাহন, শহুরে সংস্কৃতি আর সামাজিক ‘স্ট্যাটাস’-এর প্রতিযোগিতায় গরুর গাড়ির বিয়ে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। অনেকে একে “সেকেলে” ভাবতে শুরু করেন। নতুন প্রজন্মের কাছে গরুর গাড়ি এখন কেবল গল্প। আরেকটি কারণ, গরুর গাড়ি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, গরু পালনের আগ্রহ কমে যাওয়া এবং গ্রাম থেকে শহরমুখী জনস্রোত।
    স্মৃতির পাতায় আটকে থাকা এক ঐতিহ্য। আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিয়ে মানেই রঙিন লাইট, সাউন্ড সিস্টেম আর মোটরযানের বহর। গরুর গাড়ির সেই ধীরগতির আনন্দ, মানুষের সঙ্গে মানুষের ঘনিষ্ঠতা—সবই যেন হারিয়ে গেছে। প্রবীণরা আক্ষেপ করে বলেন, “আগে বিয়েতে আনন্দ ছিল, এখন আছে শুধু আয়োজন।”
    ফিরে আসতে পারে কি আবার? ঐতিহ্য পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা কঠিন হলেও, সাংস্কৃতিক উৎসব, গ্রামবাংলার মেলা কিংবা প্রতীকী আয়োজনে গরুর গাড়ির বিয়ে নতুন করে তুলে ধরা যেতে পারে। এতে নতুন প্রজন্ম জানবে তাদের শিকড়ের কথা, বুঝবে সহজ আনন্দের মূল্য। গরুর গাড়িতে বিয়ে শুধু একটি বাহন নয়, এটি ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অংশ। চাকার সেই মৃদু শব্দ আজ আর শোনা যায় না, কিন্তু স্মৃতিতে তা এখনো বেঁচে আছে, নীরবে, গভীর মমতায়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর সাথে নজেকশিস নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর সাথে নজেকশিস নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াত প্রার্থীর সাথে নজেকশিস নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী ডক্টর মিজানুর রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জেলা কলেজ শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ সমিতি (নজেকশিস)-এর নবনির্বাচিত ও সাবেক কমিটির নেতৃবৃন্দ। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় রহনপুর পুনর্ভবা মহানন্দা আইডিয়াল কলেজে। এসময় উপস্থিত ছিলেন নজেকশিসের সভাপতি ও নাচোল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ওবায়দুর রহমান, নজেকশিসের নব-নির্বাচিত সভাপতি মোহাঃ তরিকুল ইসলাম সিদ্দিকী (নয়ন), সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাবুল আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফিরোজ কবিরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নজেকশিস নেতৃবৃন্দ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা। ডক্টর মিজানুর রহমান এ সময় শিক্ষকদের দাবির প্রতি সহমত প্রকাশ করে বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষাবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎকে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।