Blog

  • নিয়ামতপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বড় ভাইকে মারধরের অভিযোগ

    নিয়ামতপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বড় ভাইকে মারধরের অভিযোগ

    নিয়ামতপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে বড় ভাইকে মারধরের অভিযোগ

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে আব্দুল আলিম (৪২) নামে বড় ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের বাদমালঞ্চি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম বাদী হয়ে বুধবার সকালে নিয়ামতপুর থানায় এজাহার দায়ের করেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ছোট ভাইদের সাথে আব্দুল আলিমের দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলছিল। এরপর গ্রাম্য সালিশে বাবা ছাতাব আলী মন্ডল ছেলেদের মাঝে সম্পত্তি নিজেই ভাগ বাটোয়ারা করে দেন ছেলেদের মাঝে। এরপর থেকে আব্দুল আলিমের হাঁস মুরগী ছোট ভাইদের জায়গায় গেলে তারা মেরে ফেলেন। তিনি ভাইদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হবেন না বলে কাঁটা তারের বেড়া দিতে গেলে ভাইয়েরা বাঁধা দেয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা লেগে যায়। এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার বিকেলে তিনি হাটে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে ছোট ভাই আলমগীর হোসেন, মোবারক হোসেন, আব্দুস সালাম, আরিফা ও আরিফ হোসেন দেশীয় অস্ত্র বাঁশের লাঠি ও হাসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মাথায় হাসুয়ার কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম বলেন, ছোট ভাইদের সাথে আমার দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলছিল। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা আমাকে হাসুয়া দিয়ে মাথায় কোপ দেয়। এ ঘটনায় আমি প্রশাসনের নিকট সুষ্ঠু নিরপেক্ষ বিচার চায়। প্রতিপক্ষ আলমগীর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। নিয়ামতপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের অভিযোগ পেয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  • চাঁপাইনবাবগেঞ্জ শীতবস্ত্রের অভাবে নীরব কষ্টে হাজারো মানুষ

    চাঁপাইনবাবগেঞ্জ শীতবস্ত্রের অভাবে নীরব কষ্টে হাজারো মানুষ

    চাঁপাইনবাবগেঞ্জ শীতবস্ত্রের অভাবে নীরব কষ্টে হাজারো মানুষ

    ঘন কুয়াশার আড়ালে সূর্যহীন সকাল, হিমেল বাতাসে জমে ওঠা ঠান্ডা আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস-এই তিনে মিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন শীতের দংশনে ক্ষতবিক্ষত এক জনপদ। উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় শীত আর কেবল মৌসুমি অনুভূতি নয়, এটি এখন প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। ভোরের দিকে জেলার গ্রাম, চর ও শহরের অলিগলিতে দেখা যায় আগুন জ্বালিয়ে শরীর সেঁকতে থাকা মানুষ। খড়, কাঠ কিংবা শুকনো পাতা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ভবঘুরেরা। কারও গায়ে মোটা কাপড় নেই, কারও আছে ছেঁড়া কম্বল-যা এই তীব্র শীতে মোটেও যথেষ্ট নয়।

    সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বৃদ্ধ হাফেজ উদ্দিন বলেন, “শীতে ঘুম ভাঙলেই মনে হয় বুক জমে গেছে। আগুন না পোহালে সকালটা পার করা যায় না। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর শীতের চেয়েও বেশি অসহায়ত্বের ছাপ। শীতের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা। দিনমজুরদের কাজ কমে গেছে, ভ্যানচালকদের যাত্রী নেই, কৃষিশ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না। একজন দিনমজুর নারী বলেন, “কাজে গেলে শরীর টেকে না, আর না গেলে ঘরে ভাত জোটে না। স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও পুষ্টির অভাব এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জেলার হাটবাজারেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। সকালবেলা দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা কম। চায়ের দোকানগুলো যেন শীতবিরোধী অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। গরম চায়ের কাপে হাত সেঁকে মানুষ কিছুটা উষ্ণতা খুঁজছে। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এখনও বহু মানুষ শীতবস্ত্রের অপেক্ষায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। অর্থাৎ শীতের এই দাপট আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শীত তাই কেবল প্রকৃতির রুদ্রতা নয়-এটি সমাজের মানবিক দায়িত্বেরও এক নির্মম পরীক্ষা। কুয়াশার ভেতর লুকিয়ে থাকা এই কষ্টগুলো দেখার ও পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে তিন মাদক কারবারির জেল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে তিন মাদক কারবারির জেল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে তিন মাদক কারবারির জেল

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দন্ড প্রদান করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সদর উপজেলার মসজিদপাড়া এলাকা থেকে গাঁজাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন মসজিদপাড়া এলাকায়। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন মোঃ তসিকুল ইসলাম তছি (৩০), পিতা-মৃত কামরুল ইসলাম, সাং-পশ্চিম পাঠরপাড়া; মোঃ সাইদুর রহমান (৫০), পিতা-মৃত আনসার আলী, সাং-মসজিদপাড়া; এবং মোঃ শরিফুল ইসলাম সুমন (৩২), পিতা-মোঃ আব্দুল কাদের, সাং-মসজিদপাড়া। তিনজনই সদর মডেল থানার বাসিন্দা। অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে মোট ৬৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে পৃথকভাবে ২০ গ্রাম, ২০ গ্রাম ও ২৫ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মামলার প্রসিকিউশন দাখিল করেন উপ-পরিদর্শক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ প্রত্যেক আসামিকে ৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি পৃথকভাবে ৩২০ টাকা, ১৫০ টাকা ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • পত্নীতলায় মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যু

    পত্নীতলায় মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যু

    পত্নীতলায় মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেনের মৃত্যু

    নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর মক্কা ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন (৫৫) ৬ জানুয়ারী ঢাকা ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজে হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন। জানা যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছিলেন কিছুদিন আগে তার স্ত্রী একটি কিডনি দিলে কিছুদিন তিনি সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন তারপরে হঠাৎ অসুস্থ হলে এক সপ্তাহ আগে ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ জানুয়ারি তিনি মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার ঘোসনগর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামে। তিনি ধর্ম অনুরাগী সমাজ সেবক ছিলেন। বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসায় দান সদকা সহ নিজের প্রতিষ্ঠিত মক্কা ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছেন। উল্লেখ্য তিনি আলোচিত বক্তা মুফতি আমির হামজার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অত্র এলাকায় আমির হামজার প্রত্যেকটি মাহফিলে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

  • নওগাঁয় সরিষা ফুল থেকে ৪ কোটি টাকার মধু আহরণের প্রত্যাশা

    নওগাঁয় সরিষা ফুল থেকে ৪ কোটি টাকার মধু আহরণের প্রত্যাশা

    নওগাঁয় সরিষা ফুল থেকে ৪ কোটি টাকার মধু আহরণের প্রত্যাশা

    নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলায় সরিষা ক্ষেত থেকে ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু আহরণের প্রত্যাশা করছে কৃষি বিভাগ। সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মধু থেকে অর্থনৈতিক আয়ের অধিক সম্ভাবনার কারণে নওগাঁ মৌ বাক্সে মধু আহরণের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে। নওগাঁ জেলায় চলতি বছর ৫৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। সরিষার ফুল থেকে মধু আহরণের জন্য অধিক উৎপাদিত ৬টি উপজেলায় ৭৭ জন মাওয়াল ৬০২৫টি মৌবাক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করছেন। অবনীত সরিষার মাঠ জুড়ে সারি সারি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন তারা।

    প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে একবার মধু আহরণ করা হয়ে থাকে। চলতি মওসুমে স্থাপিত ৬০২৫টি মৌ বাক্সের মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৯২০টি, আত্রাই উপজেলায় ৬৩৫টি, সাপাহার উপজেলায় ১৯০০টি, পোরশা উপজেলায় ১০০০টি, মান্দা উপজেলায় ১৪২০টি এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ১৫০টি বাক্স স্থাপন করে মধু আহরণ করা হচ্ছে। সরিষা ফুলের পাশে স্থাপিত এসব বাক্স থেকে স্থানীয় মধু ক্রেতারা যেমন খুচরা ভাবে মধু ক্রয় করেন আবার পাইকারিভাবে বিভিন্ন কোম্পানির কাছেও মধু বিক্রি করে থাকেন। এসব মধু নির্ভেজাল গাঢ় এবং সুমিষ্ট বলে জানান ক্রেতারা।

    কৃষি বিভাগের দেয়া ধারণায় সরিষা চাষিরা মনে করেন সরিষার ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করলে পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায়। মান্দা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ শায়লা শারমিন বলেছেন বিভিন্ন উপজেলায় সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মৌ বাক্সে মধু আহরণ তদারকী করে থাকেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি বিভাগ বলছে সরিষা ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করলে একদিকে যেমন পরাগায়নের ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকে মৌ চাষীরা। চলতি বছর জেলায় ১ লাখ ৬ হাজার কেজি মধু আহরণের প্রত্যাশা রয়েছে যার আর্থিক বাজার মূল্য ৪ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষকৃত সরিষা ক্ষেতে আরও অধিক পরিমাণে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু আহরণ করলে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে অন্যদিকে অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

  • হাতের খেলনা নয়-হাতে কাজ ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শৈশব গিলে খাচ্ছে শিশু শ্রম

    হাতের খেলনা নয়-হাতে কাজ ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শৈশব গিলে খাচ্ছে শিশু শ্রম

    হাতের খেলনা নয়-হাতে কাজ ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে শৈশব গিলে খাচ্ছে শিশু শ্রম

    সবুজ রঙের দেয়ালঘেরা ছোট্ট এক চায়ের দোকান। কেটলি থেকে ভাপ উঠছে, সারি সারি কাপে ঢালা হচ্ছে চা। দোকানের ভেতরে ব্যস্ত হাতে কাজ করছে একটি শিশু-মাথায় শীতের টুপি, চোখে ক্লান্তির ছাপ। বয়স দশ কি এগারো পেরোয়নি। ছবি বলছে, এ শুধু একটি শিশুর গল্প নয়; এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ক্রমবর্ধমান শিশু শ্রমের নীরব দলিল। এই দৃশ্য এখন আর ব্যতিক্রম নয়। জেলার সদর থেকে গোমস্তাপুর, নাচোল কিংবা শিবগঞ্জ চা-দোকান, হোটেল, ইটভাটা, গ্যারেজ, খুচরা দোকান এমনকি কৃষিকাজেও শিশুদের উপস্থিতি চোখে পড়ছে উদ্বেগজনক হারে।

    অভিভাবকের দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের সংকট, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া-সব মিলিয়ে শিশুরা বাধ্য হচ্ছে সময়ের আগেই “কর্মজীবনে” প্রবেশ করতে। ছবির শিশুটি জানে না তার কাজটি আইনত অপরাধের শামিল। তার কাছে কাজ মানে-পরিবারের জন্য দু’মুঠো ভাত নিশ্চিত করা। স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি নয়, তার দিনের শুরু কেটলির সিটির শব্দে। বন্ধুরা যখন বইখাতা হাতে স্কুলে যায়, তখন সে গুনে গুনে কাপ ধোয়, চা ঢালে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক শিশু করোনাপরবর্তী অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে স্থায়ীভাবে কাজের জগতে ঢুকে পড়েছে। বিদ্যালয়ে ফিরতে চাইলেও দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতা তাদের পিছু ছাড়ছে না। বাংলাদেশে শিশু শ্রম নিরোধে আইন থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ দুর্বল। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু নিয়োগে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-এসবের অভাব স্পষ্ট। ফলে শিশু শ্রম যেন ধীরে ধীরে “স্বাভাবিক” হয়ে উঠছে। সমাজের দায় এই শিশুর চোখে যে প্রশ্ন-“আমি কি শুধু কাজই করব?”-তার উত্তর খোঁজার দায়িত্ব আমাদের সবার। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং সর্বোপরি সমাজকে একসঙ্গে এগোতে হবে। দরকার পরিবারভিত্তিক সহায়তা, স্কুলে ফেরানোর উদ্যোগ, এবং শিশুশ্রমমুক্ত কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলা। ছবির ফ্রেমে ধরা পড়া শিশুটি আমাদের আয়না। আজ যদি আমরা মুখ ফিরিয়ে নেই, আগামী দিনে এই জেলাই হারাবে তার সবচেয়ে বড় সম্পদ-শিশুদের।

  • গোবিন্দগঞ্জে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    গোবিন্দগঞ্জে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    গোবিন্দগঞ্জে এপেক্স ক্লাবের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

    এপেক্স ক্লাব অব গোবিন্দগঞ্জ’র উদ্যোগে সার্ভিস প্রোগ্রামের আওতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার কাটাখালী বালুয়াহাটে এপেক্স ক্লাব অব গোবিন্দগঞ্জ’র সার্ভিস প্রোগ্রামের আওতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। ক্লাব প্রেসিডেন্ট এপে. মনমোহন সরকার, অতীত সভাপতি ও ন্যাশনাল অফিশিয়াল যথাক্রমে এপে. কাজী আসাদুজ্জামান উল্লাস এবং আরিফুর রহমান বাবলু, আইপিপি এপে. রফিকুল ইসলাম অপু, জুনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এপে. আতিকুর রহমান আতিক, সার্ভিস ডিরেক্টর এপে. নুরন্নবী আকন্দ লাজু, ফ্লোর মেম্বার এপে. শামীম আহম্মেদ প্রমূখ এ শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • গোবিন্দগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

    গোবিন্দগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

    গোবিন্দগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

    গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনাসহ পৃথক ঘটনায় ৩জন নিহত হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কালিতলা বাজারের পার্শ্বে রোড ডিভাইডার সংলগ্ন স্থানে বিকল হয়ে বালু ও পাথর বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-১৩৬০) দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বগুড়াগামী অপর একটি বালু বোঝাই দ্রুতগতির ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট ২৪-৬৭৬৩) ওই বিকল ট্রাকটিকে পিছন দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দিলে বালু বোঝাই ট্রাকটির চালক ও কেবিনে থাকা এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার জতুরপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে ট্রাক চালক আব্দুর রহিম মিয়া (৩০) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের বুনোতলা ছয়ঘরিয়া (রতনপুর) গ্রামের মৃত গেন্দা শেখের ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী চাঁন মিয়া শেখ (৬০)। অপরদিকে, গ্যাসের চুলায় পানি গরম করার সময় গ্যাসের আগুনে পুড়ে গিয়ে রাজিয়া বেগম (৬৮) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের পঁচারিয়া (গুলোতোপাড়া) গ্রামের মৃত আনছার আলীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম গতকাল রোববার সকালে রান্নাঘরে নাতির জন্য গ্যাসের চুলায় পাতিলে পানি গরম করার সময় হঠাৎ করে গ্যাসের আগুন শরীরে লেগে মুহুর্তের মধ্যেই তার সমস্ত শরীর পুড়ে ঝলসে যায়। সাথে সাথে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হলে সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজিয়া বেগম মারা যান। রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর জাহাঙ্গীর আলম প্রধান রাজিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে, ট্রাকের ধাক্কায় চালকসহ ১ যাত্রী নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে এবং মরদেহ দু’টি সেখান থেকে উদ্ধার করার পর ময়না তদেন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

  • বিএসএফের হেফাজতে মৃত্যু ॥ পতাকা বৈঠক শেষে রবিউলের মরদেহ ফেরত পেল বিজিবি

    বিএসএফের হেফাজতে মৃত্যু ॥ পতাকা বৈঠক শেষে রবিউলের মরদেহ ফেরত পেল বিজিবি

    বিএসএফের হেফাজতে মৃত্যু ॥ পতাকা বৈঠক শেষে রবিউলের মরদেহ ফেরত পেল বিজিবি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুরটেক সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর মৃত যুবক রবিউল ইসলামের (৩৫) মরদেহ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে বিএসএফ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোম্পানি পর্যায়ের পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জহুরপুরটেক সীমান্তে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে রবিউলের মরদেহ ফেরত আনা হয়। এ সময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
    নিহত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের এজাবুর রহমানের ছেলে। বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, এ ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবারই বিএসএফ দাবি করেছে, হঠাৎ খিঁচুনি উঠে অসুস্থ হয়ে রবিউল মারা গেছেন।
    প্রসঙ্গত, গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোররাতে নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ১৫-২০ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব-ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রবিউল বিএসএফের হাতে আটক হন। আটকের পরই রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
    পরবর্তীতে রবিউলের পরিবার বিজিবির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথম দফা পতাকা বৈঠকে বিএসএফ রবিউলের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে এবং সোমবার রাতে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

  • নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিট নিয়ে বিরোধে বাসচালককে ডেকে নির্যাতন পুলিশের

    নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিট নিয়ে বিরোধে বাসচালককে ডেকে নির্যাতন পুলিশের

    নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিট নিয়ে বিরোধে বাসচালককে ডেকে নির্যাতন পুলিশের

     

    নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিটে বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে এক বাসচালককে ডেকে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের বিরুদ্ধে। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপারের (সাপাহার সার্কেল) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
    এর আগে ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনে ধানসুরা যাওয়ার পথে বাসচালক ও সুপারভাইজারের সাথে তর্কে জড়ান সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী জয়ন্ত বর্মন। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাস রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় সাপাহার থেকে ছাড়ে। রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ওই বাসে যাত্রী হয়ে ধানসুরা নামার উদ্দেশ্যে সিটবিহীন টিকিট কেটে উঠেছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মনের স্বামী কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মন। বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে ওই স্টপেজ থেকে রাজশাহীগামী যাত্রীর যেই সিটে জয়ন্ত বর্মন বসেছিলেন সেটি থেকে উঠে যেতে অনুরোধ করেন সুপারভাইজার সিয়াম। ওই সময়ে নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন জয়ন্ত। একপর্যায়ে সৃষ্ট তর্ক বাড়তে থাকলে সিট ছেড়ে দিয়ে বাসচালক বাদলের কাছে এগিয়ে যান জয়ন্ত। চালকের সঙ্গে চলে তুমুল বাকবিতণ্ডা। এরপর নির্ধারিত গন্তব্যে ধানসুরায় নেমে যাওয়ার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান জয়ন্ত বর্মন।
    এদিকে জয়ন্ত বর্মন গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার পর সাপাহারের টিকিট মাস্টারকে অফিসে ডেকে নেন সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন। টিকিট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করেন তিনি। এরপর চালক ও সুপারভাইজারকে হুমকি-ধমকি দেন শ্যামলী রানী বর্মন। যাত্রাপথে বার বার শ্যামলী রানী বর্মনের কল আসায় বাসটি নির্ধারিত সময়ে রাজশাহী পৌঁছাতে কিছুটা দেরী করে ফেলে। পরবর্তীতে রাত ১০টায় ‘হিমাচল’ পরিবহনের ওই বাস পুনরায় সাপাহারে ফিরলে চালককে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে আনেন শ্যামলী রানী বর্মন।
    সেখানে পৌঁছানোর পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বাসচালক বাদলের পেটে প্রথমেই সজোরে লাথি মারেন শ্যামলী রানী বর্মন। বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন তার স্বামী জয়ন্ত বর্মনও। এরপর সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনের নির্দেশে তার বডিগার্ড আনন্দ বর্মন এসএস পাইপ দিয়ে চালককে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে আহত অবস্থায় বাদল জ্ঞান হারালে সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরের দিন সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীতে ফিরে রাজশাহী মেডিকেলে কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বাসচালক বাদল।
    ভুক্তভোগী বাসচালক বাদল বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছেন। বাদল বলেন, এএসপি (শ্যামলী রানী বর্মন) ম্যাডাম এবং উনার স্বামী (জয়ন্ত বর্মন) আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে শরীরের গোপন জায়গা গুলোতে মেরেছে। উনি (শ্যামলী রানী বর্মন) বডিগার্ডকে বলেন- ‘মাইরা হাত-পা ভেঙে দে।’ তারপর বডিগার্ড আমাকে এসএস পাইপ দিয়ে ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?
    রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় ওই বাসে রাজশাহীর যাত্রী হিসেবে ছিলেন স্কুলশিক্ষক নাসির। ওই দিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি বলেন, একজন শিক্ষিত মানুষ হয়েও জয়ন্ত বর্মন যে আচরণ করলেন তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সহকারী পুলিশ সুপার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তিনি ওই বাসের ড্রাইভারের কাগজপত্র যে ভাষায় দেখতে চাইলেন এবং হুমকি দিলেন তা রীতিমতো শাস্তিযোগ্য বলে মনে হয়েছে। ফোনে এএসপি শ্যামলী রানীও অনেক হুমকি দিয়েছেন।
    আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সজীব বলেন, জয়ন্ত বর্মন স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে খুব বাজে আচরণ করেছেন। বাসের মধ্যে মনে হচ্ছিল উনি ড্রাইভার আর সুপারভাইজারকে মেরেই দেবেন। বারবার তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। উনার এতো পাওয়ার তো প্রাইভেট গাড়িতে চলবে।
    এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, আমাদের বাস এক চালককে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে সার্কেল এসপি শ্যামলী রানী বর্মন নির্যাতন করার পর থেকে স্থানীয় বাস মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি (শ্যামলী রানী বর্মন) আমাদের সাথেও অশোভন আচরণ করেছেন। আমরা অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি। অন্যাথায় হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
    অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।
    উপরোক্ত বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের মাঝে বাকবিতান্ড হয়েছে এমটা শুনেছি তবে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি বা মারধরের বিষয়ে আমার জানা নেই। তিনি আরো বলেন, যিনি ভুক্তভোগী তিনি কোন অভিযোগ করলে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এবিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মন কে সর্তক করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার ।