চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় নাগরিক সেবায় চরম অব্যবস্থাপনা ॥ জনগণের ভোগান্তি চরমে
নগরবাসীর মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বাস্তবে সেটা নেই বললেই চলে। বর্তমানে পৌরসভায় নাগরিক সেবায় চরম অব্যবস্থাপনায় জনগণের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। রাস্তা-ঘাটের করুণ অবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট এখন পৌরবাসীর নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাগরিকরা বলছেন, পৌর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই এমন দূরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ক্ষোভ, হতাশা ও চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাতে হচ্ছে পৌরনাগরিকসহ সাধারণ মানুষকেও।

পৌর এলাকার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির ভেতরের রাস্তাগুলো বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও গভীর গর্ত, কোথাও ভাঙা ইট-পাথর ফলে যানবাহন চলাচল যেমন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তেমনি পথচারীদের জন্যও সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা এবং বৃদ্ধরা প্রতিদিন পড়ছেন ভোগান্তিতে। শহরের অনেক পাড়া-মহল্লায় ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূর্বলতার কারণে পানি নামতে না পেরে জমে থাকে দিনের পর দিন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ, পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের। শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি আরও নাজুক। প্রতিদিন হাজার হাজার টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও সঠিকভাবে অপসারণের উদ্যোগ নেই। শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা জায়গায় পড়ে থাকে ময়লার স্তূপ। দুর্গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে কষ্টে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। অলিগলিতে জমে থাকা আবর্জনা পরিবেশকে যেমন দূষিত করছে, তেমনি মশা-মাছিসহ নানা জীবানুর উৎপত্তিস্থল তৈরি করছে। এতে বাড়ছে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ নানা রোগ। পৌরসভার আরেকটি বড় সমস্যা বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হয় না।

আবার যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানকার পানি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরবরাহকৃত পানি অনেক সময় দূষিত বা ময়লা মিশ্রিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নাগরিকরা বাধ্য হচ্ছেন পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে ব্যবহার করতে, অথবা বিষুদ্ধ পানি কিনে খাচ্ছেন। শহরের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এটি অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানি পাওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। অথচ সেটা থেকেও আমরা বঞ্চিত।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সচিব মামুন অর রশিদ জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, শিগগিরই ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করে কম্পোস্ট সার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ড্রেন পরিষ্কার রাখার কাজও নিয়মিত করা হচ্ছে। শহরে প্লাস্টিকজাতীয় বর্জ্য ড্রেনে জমে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এ সমস্যা সমাধানেও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পৌরবাসীরা চান, পৌরসভা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করুক। অন্যথায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নাগরিকরা একটি আধুনিক, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে সেবা খাতে সংস্কার ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলেও মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা।