জনবল সংকট ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সংকটে চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সরকারি ভবন পেলেও কাটেনি চিকিৎসক সংকট, কমে যায়নি রোগীদের ভোগান্তি। লিফটবিহীন এ হাসপাতালে মারাত্মক অসুস্থ রোগীদেরও সিঁড়ি বেয়ে উঠে ৩ তলা ও ৪তলার ওয়ার্ডে ভর্তি হতে হয়। এমনকি ৩ তলা ও ৪ তলায় রোগী ভর্তি থাকলেও নার্সগণ দুটি স্টেশনের জায়গায় তিনতলায় একটি স্থানে অবস্থান করেন বলে রোগীদের ভোগান্তি কিছুটা বেড়ে যায়। এদিকে, ভবনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে বিল্ডিংয়ের ছাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই ট্যাপ, ট্যাপের লাইন, বেসিন, বৈদ্যুতিক সুইচসহ নানা জটিলতা ইতিমধ্যেই নতুন ভবনে দেখা দিয়েছে। ১৩ জনের বরাদ্ধ ডাক্তার থাকলেও ২জন মেডিকেল অফিসার ও একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ ৩জনে চলছে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। অন্যদিকে, বেড়েছে ডায়রিয়া ও মৌসুমী বিভিন্ন জ্বরের প্রকোপ। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এখন বর্তমানে ১১০ জন রোগী বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র শুয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করতে আসা ভোলামোড়ের সেলিনা জানান, ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে এত রোগীর ভিড়ে চিকিৎসা নিতে এসে নিজেরাই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ছি। হাসপাতালে ২৩নং বেডে ভর্তি থাকা আয়েশা জানান, অতিরিক্ত রোগীর ভীড়ের কারনে হাসপাতালে ডাক্তারদের দেখা খুব কম মেলে, কিছু কিছু নার্স খুবই বাজে আচরণ করে। লেবার ওয়ার্ডের নেজামপুর ইউনিয়নের এক মহিলা রোগী শরিফা বেগম জানান, তিন তলাতে ওঠা আমাদের মত রোগীদের জন্য খুবই কষ্টকর,

তার ওপর বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকার থাকে। এ ভবনে এ্যানালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও, সেটি ভাল কাজ করেনা, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই ডাক্তার, জেনারেটর সুবিধা থাকলেও নেই জুনিয়র মেকানিক, অপারেশন থিয়েটার থাকলেও নেই সার্জারি ডাক্তার কিংবা এনেস্থেসিয়া স্পেশালিস্ট। একটিমাত্র এম্বুলেন্স থাকলেও গতবছরের তেল খরচসহ অন্যান্য খরচ বাকি, সাথে ড্রাইভার বারেকের নামে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিস্তার অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাসপাতালের কর্মচারী বলেন, হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে বহিরাগত লোক হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভাড়া দিয়ে দিনের পর দিন অবস্থান করেন। এমনকি হাসপাতালে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে বছরের পর বছর বিজলী নামের এক নারী হাসপাতালের বিদ্যুৎ সুবিধাসহ বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। তবে অভিযুক্ত নারীকে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যাইনি। লিফট ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন জানান, চিকিৎসক সংকট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা নিয়ে উপর মহলের কাছে চিঠি দেয়া আছে। তিনি বিল্ডিং এর ব্যাপারে জানান, লিফটের ব্যাপারে আমার বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের লিফটের কাজ শেষ হলেই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল বিশেষ করে নাচোল ও গোমস্তাপুরে লিফটের ব্যবস্থা করা হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন সুবিধা, অসুবিধা সংকট নিয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদ জানান, ইচ্ছাশক্তি থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র চিকিৎসক সংকটের কারণে ভালোমতো চিকিৎসা সেবা দিতে পারছি না। তাছাড়া ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ার কারণে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনজন ডাক্তার ও চারজন এস.এস.এম.ও (সেকমো) ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এছাড়াও আউটডোরে প্রায় ২৩ প্রকারের ওষুধ ও ইনডোরে প্রায় ২০রকমের ঔষধ রোগীদের আমরা দিতে পারছি ঠিকই, তবে তা ক্রমবর্ধমান রোগীর জন্য যথেষ্ট নয়। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের বেশি ভাড়া আদায় ও বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহারকারী বিজলি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খবরটি আমরা পেয়েছি, এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার বারেকের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ পেয়েছি, আমরা উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবো এবং এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।