একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান।রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার রাত ঠিক ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ১২টা ৮ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পর এবারই প্রথম একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্ত্রী জোবায়দা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শহীদ মিনারে এসেছিলেন।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, একুশে উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান,

একুশে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং সদস্যসচিব সাইফুদ্দীন আহমেদ শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনারে দোয়া করা হয়। ভাষা শহীদসহ মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদ, চব্বিশের আন্দোলনের শহীদ, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আত্মার মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এ সময়।তারেক রহমান শহীদ বেদীতে দাঁড়িয়ে দোয়ায় অংশ নেন। তারপর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও এ সময় আলাদাভাবে ফুল দেওয়া হয়।এসময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এর মধ্যেই সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একই সময়ে তাদের বাহিনীর পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তারা বেদিতে দাঁড়িয়ে মোনাজাতও করেন।বাংলাদেশে দায়িত্বরত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার ও কূটনীতিকরা শহীদ মিনারে ফুল দেন।শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে অংশ নেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা জড়ো হন শহীদ মিনারের আশপাশে।রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এরপর একে একে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির গৌরবময় স্মৃতি, সেই সঙ্গে বেদনা আর শোকের রক্তঝরা দিন অমর একুশে ফেব্রুয়ারি।১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ববাংলার ছাত্র ও যুবসমাজ শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। প্রাণ হারান সালাম, রফিক, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।প্রতিবাদের মুখে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয় তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালি রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, তা এখন বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক।১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।এবার মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নানা আয়োজনে দিবসটি পালন করা হয়েছে।