Blog

  • গোপালগঞ্জে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজনকে হত্যা

    গোপালগঞ্জে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজনকে হত্যা

    গোপালগঞ্জে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজনকে হত্যা

    গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল নাজিরের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোকলেছ মোল্যা (৪৩) একই এলাকার আবুল কালাম মোল্যার ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মোকলেছ মোল্যা তারাইল বাজার থেকে সাকিব নামের স্থানীয় যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ৪-৫ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে এসে তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তারা মোটরসাইকেল চালক সাকিব ও আরোহী মোকলেছকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে সাকিব সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে মোকলেছকে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় মোকলেছকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, মোকলেছ মোল্যাকে গুরুতর জখম অবস্থায় রাত ৮টার দিকে নিয়ে আসা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। ওসি মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

  • নিতপুর সীমান্তে মালিকবিহীন ভারতীয় মহিষ আটক

    নিতপুর সীমান্তে মালিকবিহীন ভারতীয় মহিষ আটক

    নিতপুর সীমান্তে মালিকবিহীন ভারতীয় মহিষ আটক

    নওগাঁ জেলার পোরশা থানার অন্তর্গত ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ নিতপুর বিওপির টহল কমান্ডার নায়েব সুবেদার মুহাম্মদ আলী খান এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল টেট্রা নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ২টি ভারতীয় মহিষ আটক করে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে টার দিকে মালিকবিহীন অবস্থায় ০২টি ভারতীয় মহিষ আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত ভারতীয় মহিষ ০২টি পত্নীতলা শুল্ক কার্যালয়ে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি-নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে গরু/মাদক পাচার/অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং চোরাচালানের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছেন।

  • ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্তে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট-সিরাপ উদ্ধার

    ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্তে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট-সিরাপ উদ্ধার

    ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্তে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট-সিরাপ উদ্ধার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ৫৯ বিজিবি’র অভিযানে শিবগঞ্জ সীমান্তে বিপুল পরিমান নেশাজাতীয় ট্যাবলেট-সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এক প্রেসনোটে জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ সীমান্তে মাদক চোরাকারবারীরা দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করতে বিভিন্ন কায়দায় মাদক চোরাচালান করছে। চোরাচালান প্রতিরোধে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর বিজিবি সদস্যরা রাত-দিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১ জানুয়ারি/২৬ ভোররাত ৩টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তেলকুপি বিওপি’র ০১টি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮০/১-এস হতে আনুমানিক ৭০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছিয়াত্তর বিঘা নামক গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলে ঘটনাস্থল হতে টহলদল একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রক্ষিত মালিকবিহীন ২৮৮০ পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ((TENSIWIN) ) এবং ফেন্সিডিল এর বিকল্প ২৪ বোতল নেশাজাতীয় choco+ সিরাপ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আটককৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সকল প্রকার মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি’র সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

  • রাজবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১২ বছরের শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ

    রাজবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১২ বছরের শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ

    রাজবাড়ীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১২ বছরের শিশু সিফাত গুলিবিদ্ধ

    ফরিদপুরের রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে সিফাত (১২) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত সিফাত ওই এলাকার মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বালু মহলের দখল ও পূর্ব বিরোধের জেরে শহরের শিমুল ও ইনসান নামের দুটি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালীন দুর্বৃত্তদের ছোড়া একটি গুলি সিফাতের বক্ষপিঞ্জরের নিচে আঘাত করে এবং পেটের উপরের অংশে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি করে। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুরুল আজম ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকার জানান, শিশুটি যখন হাসপাতালে আসে তখন সে ‘হাইপোভলিউমিক শকে’ (অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত অবস্থা) ছিল। তার খাদ্যনালীর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও রিসাসিটেশনের মাধ্যমে তার অবস্থা স্থিতিশীল করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত শিশুর মা জানান, বালু মহল নিয়ে এলাকার প্রভাবশালী দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জেরেই রাতে গোলাগুলি শুরু হয় এবং তার নিরপরাধ সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মূলত শিমুল ও ইনসান গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষ হয়েছে। শিমুল গ্রুপের পক্ষ থেকে ছোড়া গুলিতে শিশুটি আহত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে লাখো লাখো মানুষের ঢল- রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অশ্রুশিক্ত বিদায়-জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে দাফন

    বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে লাখো লাখো মানুষের ঢল

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার অশ্রুশিক্ত বিদায়-জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে দাফন

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অশ্রুশিক্ত বিদায় দিয়েছেন লাখ লাখ জনতা। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত জানাযায় শেষ বিদায় জানান প্রিয় নেত্রীকে। জানাযা শেষে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয় বাংলার আপোষহীন এই নেত্রীকে। লাখ লাখ মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধায় বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে রূপ নেয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজ পড়ান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাগণসহ দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষ বিদায়ে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন। দেশের নেতাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, এনসিপি’র নাহিদ ইসলাম, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানাজায় শরিক হন।

    জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে তাঁর জীবন ও কর্ম, দেশের জন্য ত্যাগ, স্বৈরাচার কর্তৃক নির্যাতন, কারাবাসসহ বিভিন্ন বিষয় সবার উদ্দেশে তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এছাড়া পরিবার ও দলের পক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি জানাজা শুরুর আগে আবেগঘন ওই বক্তব্যে মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান। এদিন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঢাকা, এর আশপাশের এলাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে বুধবার সকাল থেকেই জনস্রোতের সৃষ্টি হয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ এলাকা ছাড়িয়ে খামারবাড়ি, আসাদগেট ও ফার্মগেটসহ আশপাশের প্রতিটি এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়েছে জনতার ঢলে। মূল ভ্যেনু পর্যন্ত পৌঁছাতে না পেরে আশপাশের এলাকার রাস্তাতেই লাইন বেঁধে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নিতে হয়েছে হাজারো মানুষকে। ফলে জানাজার ঢল পৌঁছে যায় কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত। এর আগে, বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ। এসময় সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

    জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহের সঙ্গে লাল-সবুজ রঙের বাসে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বড় ছেলে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা জানাজাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। জানাজা উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ শেরেবাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যানে নিয়ে সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এসময় হাসপাতালে খালেদা জিয়ার জ্েযষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছেলের বউ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শার্মিলী রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলাম সহ সকল আত্মীয় স্বজন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সকল চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া নানা জটিল অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছিলেন। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি জটিলতা, পচনশীল যকৃতের রোগ, অস্থির হিমোগ্লোবিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বয়ঃজনিত আরও বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই বছরের ৯ জানুয়ারি তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) থেকে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন এবং ৮ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা নেন।
    ১ ৪ কলাম

  • খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ৬টি দেশের প্রতিনিধি

    খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ৬টি দেশের প্রতিনিধি

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং তার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন ৬টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তারা একে একে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেন। জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির বিশেষ দূত এবং দেশটির উচ্চ শিক্ষা ও শ্রম বিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ ঢাকায় পৌঁছান। এরপর সকাল ৯টার দিকে আসেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি.এন. ধুঙ্গেল। সূচি অনুযায়ী, বেলা পৌনে ১২টায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দুপুর ১২টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর এবং দুপুর ১টায় শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার থেকেই বিদেশি মিশনগুলো তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও বার্তার মাধ্যমে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আসছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য, এর আগে, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার জন্য খালেদা জিয়ার কফিন মনিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে রাখা হবে। সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ ও পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জানাজার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গায়েবানা জানাযা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গায়েবানা জানাযা

    সকলের প্রিয় মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জেলার বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী গভীরভাবে শোকাহত। প্রিয় মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় জেলা অনেকেই অংশ নিতে না পারায় জেলাজুড়ে বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়নে গায়েবানা জানাযার উদ্যোগে নেয় বিএনপির বিভিন্ন ইউটিনের নেতৃবৃন্দ। এরই অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে পৃথকভাবে এবং পৃথক সময়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে, ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    গাইবানা জানাজায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, কৃষকদলসহ অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। প্রিয় মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়োবানা জানাযা হয়, সদর উপজেলার বিকেল সাড়ে ৪টায় বালিডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল সোয়া ৪টায় গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুর কলেজ মাঠে, বিকেল সাড়ে ৪টায় ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা রেলওয়ে ফুটবল মাঠে, বিকেল ৩টায় বারঘরিয়া ইউনিয়নের বারঘরিয়া সরকারি গোরস্থান মাঠে, বিকেল সাড়ে ৪টায় মহারাজপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল সাড়ে ৪টায় রানিহাটি ইউনিয়নের কৃষ্ণগোবিন্দপুর হাইস্কুল মাঠে,

    বিকেল ৪টায় ইসলামপুর ইউনিয়নের চাঁটাইডুবি খেলার মাঠে, বিকেল সাড়ে ৪টায় দেবীনগর ইউনিয়নের দেবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল ৪টায় অনুপনগর ইউনিয়ন কাউন্সিল চত্বরে, বিকেল সাড়ে ৪টায় শাজাহানপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে, বিকেল সাড়ে ৪টায় চরবাডাঙ্গা ইউনিয়নের চরবাগডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, বিকেল সোয়া ৪টায় সুন্দরপুর ইউয়নের আব্দুস সামাদ কলেজ মাঠে এবং বিকেল ৪টায় আলাতুলী ইউনিয়নের রানীনগর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়োবানা জানাযা হয়।

    এছাড়া, জেলার সকল উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির উদ্যোগে মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গায়োবানা জানাযা হয়। জানাযায় উপজেলা বিএনপি ও অংগ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন মানুষ অংশ নেয়। মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেতার করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়াও, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক মমতাময়ী মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বাদ আসর পাঠানপাড়া দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি ও অংগ সংগঠনের বিভিন্নস্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয়।

  • গুলশানের বাসভবনে খালেদা জিয়ার মরদেহ ॥ শ্রদ্ধা জানান স্বজন ও নেতা-কর্মীরা

    গুলশানের বাসভবনে খালেদা জিয়ার মরদেহ ॥ শ্রদ্ধা জানান স্বজন ও নেতা-কর্মীরা

    বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার সকালে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলসহ শেষবারের মতো গুলশানে তাঁর পুত্র তারেক রহমানের বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে বাসভবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। হাসপাতাল থেকে বাসভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভোর থেকেই প্রিয় নেত্রীকে শেষবার দেখার জন্য বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বাসভবনে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। বাদ জোহর দুপুর ২টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে শেরেবাংলা নগরে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় মমতাময়ী নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবর্তে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে মরদেহ রাখা হয়। জানাজা অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া এভিনিউ জুড়ে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে জানাজায় অংশ নিতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সকল দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি অতিথি, রাষ্ট্রদূত ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। দাফনকাজ নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যান এলাকায় জনসাধারণের চলাচল সীমিত রাখা হয়। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বুধবার সারাদেশে একদিনের সাধারণ ছুটি ও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ও বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া বাদ জুমা সকল মসজিদে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও অন্যান্য উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে সাত দিনের শোক কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতা-কর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। গুলশান কার্যালয় ও নয়াপল্টনে খোলা হয়েছে শোক বই।
    উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। ১৯৯১ সালে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আমলেই সংসদীয় সরকার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ২০১৮ সাল থেকে কারাবন্দী থাকলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পাননি তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর তার বড় ছেলে তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মারা যান।
    ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করা খালেদা জিয়া ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর সংকটকালে তিনি দলের হাল ধরেন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি পান। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীজুড়ে।

  • খালেদা জিয়ার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার নেয়া শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের অবসর গ্রহণ

    খালেদা জিয়ার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার নেয়া শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের অবসর গ্রহণ

    খালেদা জিয়ার হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার নেয়া শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের অবসর গ্রহণ

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার পাওয়া একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অধ্যায় শেষ হলো আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়ে। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে জীবন উৎসর্গ করা সেই শিক্ষক তোফিকুল ইসলাম চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজনরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক তোফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তাঁর শেষ কর্মদিবস সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালের ২০ জুন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে তিনি জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। তার শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনার। দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তোফিকুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসায় কখনো কোনো ঘাটতি রাখিনি। সবসময় চেষ্টা করেছি শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে। আজ আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত এই খবর শুনে বুক ভরে যায়। জানা যায়, প্রায় ৩৭ বছর আগে এনজিও কর্মী হিসেবে ওই এলাকায় গিয়ে তিনি দেখেন অধিকাংশ মানুষই স্বাক্ষর করতে জানেন না। তখনই তাঁর মনে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপলব্ধি জন্ম নেয়। এরপর চাকরি ছেড়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাজনরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে গেছেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরা রহমান। সিনিয়র শিক্ষক শিরিন আক্তার পারভিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হক সোনা, বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল ওহাব, তরুলতা (জালমাছমারী) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী শিক্ষক ওয়াসিমসহ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। বিদায় মুহুর্তে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় আবেগে ভেঙে পড়েন তোফিকুল ইসলাম। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠান শেষে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের হাতে। পরে রাজকীয়ভাবে ফুলেল পাঁপড়ি ছিটিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে তাঁকে বিদায় জানানো হয়।