মামলায়সেচপাম্প বন্ধ ॥ খরায় পুড়ছে অর্ধশত বিঘা বোরো ক্ষেত
মামলার দ্বন্দ্বে সেচ পাম্প বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ। ফলে প্রচণ্ড রোদে ও খরায় মাদারীপুর সদর উপজেলার প্রায় অর্ধশত বিঘা জমির বোরো ধানের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের এসব জমির কৃষক। তারা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ধানের ক্ষেতে পানির ব্যবস্থার দাবি করছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিকাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুধখালি গ্রামের হাওরের ক্ষেতে পানির অভাবে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বড় বড় ফাটল ধরা মাটিতে আর লালচে রংয়ের ফ্যাকাশে আধমরা ধানগাছ গুলি কোনোমতে টিকে আছে।সেই ক্ষেতের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওই গ্রামের নিজাম মুন্সির মা হালিমা খাতুন ও স্ত্রী সোনিয়া আক্তার। এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে তারা এ বছর ধান চাষ করেছিলেন। এ ধান দিয়েই বছর জুড়ে পুরো পরিবারের আহারের ব্যবস্থা হয়।কিন্তু চোখের সামনে পানির অভাবে পুড়ে যাচ্ছে সে ধান ক্ষেত।স্থানীয়রা জানান, গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে সেচ মেশিন ভেঙে ফেলায় ধানের ক্ষেতে পানি দিতে না পারছি না। প্রায় সব চারাই মরে যাচ্ছে। এভাবে আর কয়েকদিন থাকলে আর ধানের আশা করা যাবে না। মামলা-হামলা হতে পারে, কিন্তু তাই বলে ধানের পানি দেওয়া কেন বন্ধ করলো? এই ধানের উপরে সারা বছর আমরা বেঁচে থাকি। আমাদের পেটে লাথি দেয়া হইছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই। আর আমাদের চাষিদের মামলা দিয়ে গ্রামছাড়া করেছে, যে কারণে জমিতে আসতে পারি না। সেচপাম্পও মেরামত করতে দেয় না। আমাদের মুখে ভাত দেয়ার মতো আর ব্যবস্থা থাকলো না। এভাবে ফলন্ত ধানগুলোকে মেরে ফেলতেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি, মামলা হলে আদালতে বিচার করুক, আর আমাদের ধানের পানি দেয়ার ব্যবস্থা করুক।স্থানীয়রা আরও জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ৯টার দিকে দক্ষিণ দুধখালী মুন্সিবাড়ী জামে মসজিদের সংস্কার কাজ নিয়ে স্থানীয় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার সিদ্দিক মুন্সী, কামাল মুন্সীসহ কয়েকজনের মারামারির ঘটনা ঘটে।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরের দিন মাদারীপুর সদর থানায় আট জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন আলমগীর। পরে প্রতিপক্ষের লোকজনকে ঘায়েল করতে জোরপূর্বক দক্ষিণ দুধখালী হাওরের সেচপাম্পটিও ভেঙে দেন তিনি। মামলার আসামিদের কয়েকজনের সেখানে জমি আছে। সেচ পাম্পের পরিচালনাকারী আকরাম মুন্সী বলেন, “১০-১২ দিন আগে হঠাৎ হামলা চালিয়ে সেচ পাম্পটি ভেঙে ফেলে ওরা। পরে আমি মেরামত করতে গেলেও বাধা দিয়েছে তারা। মেশিন ঠিক না করতে হুমকি দিয়েছে। তবে মামলার বাদী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয়নি। তিনি বিষয়টি পুলিশ ও আদালত বুঝবে বলে দাবি করেছেন। এব্যাপারে সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেচ পাম্প বন্ধের ঘটনাটি জানা নেই, যে করেই হোক ধানের ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ফসল নষ্ট করার অধিকার কারোই নেই। যে বা যারাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।