চুয়াডাঙ্গায় দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়েছে শিক্ষক ইব্রাহিম
চুয়াডাঙ্গার দীননাথপুরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে। আহতরা ছাত্ররা হলো, ক্ুঁকিয়াচাঁদপুর গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে রাব্বি হাসান (১৩) ও একই গ্রামের মিলন হোসেনের ছেলে মিরাজ (১৩)। তারা দু’জনই ওই মাদ্রাসার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বাংলা ও ইতিহাস বিষয়ে ক্লাস নেন। বৃহস্পতিবার (১১সেপ্টেম্বর) বেলা ৩ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দীননাথপুর জামেয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের স্বজনরা ওই শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে।
আহত দুই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে হুজুর ইব্রাহিমের ভাগ্নে হুজায়ফা সহ আমরা ৪ জন মাদ্রাসার মসজিদে ঘুমিয়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে ভুলবশত হুজুরের ভাগ্নে হুজাইফার গায়ে পা লেগে গিয়েছিল। বিষয়টি হুজুর দেখে ঘুমের মধ্যেই আমাদেরকে লাঠি দিয়ে মারতে থাকেন। এরপর হুজুর আমাদের দু’জনকে তার কক্ষে আটকিয়ে মেহগনি গাছের চেলা দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। দুই শিশু শিক্ষার্থী জানায়, মারধরের পর হুজুর আমাদের বলেন, আমরা যদি মারধরের কথা বাড়িতে বলি তাহলে আমাদেরকে জবাই করে টুকরো টুকরো করে ফেলবে অথবা মাদ্রাসার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলবে। আহত এক শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমি বাড়িতে কাজ করছিলাম। এসময় আমার ছেলে খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাড়িতে আসে।

দেখি তার গায়ে ধুলোবালি লেগে আছে। ছেলে জানায়, আমরা সবাই ঘুমিয়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে হুজুরের ভাগ্নের গায়ে আমার পা লেগে যায়। যা হুজুর দেখে আমাদের নির্মমভাবে পিটিয়েছে। আমি ছেলের জামা খুলে দেখি পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। আমার সন্তান অন্যায় করেছে সেটা আমাদেরকে বলতে পারতেন। কেন এইভাবে মারবে? আমরা হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আহত এক শিক্ষার্থীর পিতা জানান, কতটা নির্মমভাবে আমার ছেলেসহ দুজনকে পিটিয়েছে এই হুজুর। এর আগেও এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়েছিল। ছেলে অন্যায় করলে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতাম। সামান্য ঘুমের ঘোরে তার ভাগ্নের গায়ে পা লাগার জন্য এভাবে মারতে হবে? আমি মামলা করব। আমি এই হুজুরের বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের মন্তব্য জানা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেবুবা মুস্তারী মৌ বলেন, দু’জনই মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, দুই শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি জেনেছি। তাদের পরিবারকে থানায় মামলা বা অভিযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











